চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুঠোফোনে দেওয়া ওই হুমকিতে আজিজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে ঘরে ঢুকে হত্যা করার কথা বলা হয়, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিকেও তুচ্ছ করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী আজিজ উদ্দিন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, রোববার (২৬ জানুয়ারি) তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো অডিও বার্তায় যিনি হুমকি দিয়েছেন, তিনি চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন। মোবারককে আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত করা হয়।
প্রায় আড়াই মিনিটের ওই অডিওতে আঞ্চলিক ভাষায় অশালীন গালাগালসহ প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে পূর্বের একটি হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে আরও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় বিএনপির এক প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নিহত হন। তিনি আজিজ উদ্দিনের ভাই। ওই ঘটনায় একাধিক আসামি গ্রেপ্তার হলেও এখনো সরাসরি শুটার শনাক্ত হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হুমকির অডিওটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নীলফামারীতে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় জুলাই বিপ্লবী ছাত্রজনতা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বড় বাজার থেকে শুরু হওয়া মিছিল ডিসি মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সমাপ্ত হয়। সমাবেশে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছাইয়েদুজ্জামান বাবু, যুগ্ম সদস্য সচিব ইমরান শাহ্, জাতীয় যুবশক্তির জেলা আহ্বায়ক সৈয়দ মেহেদী হাসান আশিকসহ অন্যান্য ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন। ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার উপর হামলার মামলার আসামী, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা আজও প্রকাশ্যে ঘুরছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এইরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই অনতিবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে নথিভিত্তিক অনুসন্ধানে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই একজন শিক্ষককে নিয়োগপত্র দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, বিদ্যালয়টি বেসরকারি থাকা অবস্থায় ৩০ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মো. জাহাঙ্গীর কবিরকে সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) পদে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। অথচ ওই পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় পাঁচ দিন পরে, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে দৈনিক নীলকথা পত্রিকায়। বিধিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি, বোর্ড গঠন ও পরীক্ষা শেষে নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে উল্টো প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। নথিতে আরও দেখা যায়, নিয়োগ বৈধ দেখাতে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গ আনা হলেও সময়রেখায় রয়েছে অসংগতি। খণ্ডকালীন নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও যোগদানের আবেদন গ্রহণ করা হয়। এছাড়া নিয়োগ বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজি) প্রতিনিধির উপস্থিতির কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিধি অনুযায়ী, ডিজি প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ আইনসিদ্ধ নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, বিজ্ঞপ্তির আগেই নিয়োগপত্র দেওয়া এবং খণ্ডকালীন সিদ্ধান্তের আগে স্থায়ী নিয়োগ পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানান। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিল্পী আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। নথি পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টি ৩০ আগস্ট ২০১৭ সালে সরকারি হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি হওয়ার সময় কেবল এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আলোচিত শিক্ষক এমপিওভুক্ত না হয়েও বর্তমানে সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন।
শৈলকুপা উপজেলার গাবলা এলাকায় ট্রাক চাপায় মুফা মালিথা (৪০) নামে এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে তিনি ভাটই বাজার থেকে ঝিনাইদহ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা জানায়, মহাসড়কের গাবলা এলাকায় পেছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মুফা মারা যান। ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি আটক করার চেষ্টা চলছে।