বরিশালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। নগরীর বেলস্ পার্ক মাঠে প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ নুরুল আমিন।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি ঢাকা ও স্বাধীনতা ফোরাম বরিশালের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ইসলামের পক্ষে সংগ্রাম করে গেছেন।

এদিকে, নগরীর রসুলপুর বস্তিতে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে উঠান বৈঠক করেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। বৈঠকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন শিকদারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২১ নেতাকে সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানান। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু, মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটির দুই নেতা মজিবুর রহমান ও মো. সাইদুর রহমান ফকির, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উল্লিখিত নেতারা দলের প্রাথমিক পদসহ সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। মালিকানাধীন দলীয় শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এটি একটি কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এই সভায় খুলনা মহানগরী ও জেলার হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জনসভা সফল করতে অর্ধশতাধিক মাইক ব্যবহার করে প্রচার করা হয়েছে, দুই লক্ষাধিক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গ্রামে প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪০ ফুট বাই ৩০ ফুট আকারের বিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে, নারীদের জন্য বিশেষ বসার ব্যবস্থা, খাবার পানি ও ভ্রাম্যমান টয়লেট রাখা হয়েছে। মাঠের বাইরেও শহরের বিভিন্ন রাস্তায় মাইকিং করা হয়েছে যাতে সবাই বক্তব্য শুনতে পারে। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে খুলনায় পৌঁছে বেলা ৩টায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীরা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা বক্তব্য রাখবেন। প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান জানান, জনসভার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে এবং খুলনা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ থেকে সব অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি হবে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ঐতিহাসিক জনসভা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রচারণা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা গ্রাম-মহল্লায় ছুটছেন, ভোটারদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং ভোটের আশ্বাস চাইছেন। প্রার্থীদের ঘোষণায় গুরুত্ব পাচ্ছে নদীভাঙন রোধ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মাদক-সন্ত্রাস দমন। তবে বারবার প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে আশার পাশাপাশি সংশয়ও রয়েছে। হিজলার ভোটার হাবিউল্লাহ বলেন, “নদীভাঙন আমাদের বড় সমস্যা। ভোটের আগে সবাই ওয়াদা করে, পরে আর খোঁজ থাকে না।” বাকেরগঞ্জের সোহেল সন্যামতও যোগাযোগ ও নদীভাঙন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বরিশাল নগরীর ভোটার গোলাম সারোয়ারের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসন ও মাদকমুক্ত নগরী এখন সবচেয়ে জরুরি। আসনভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়— বরিশাল-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। বরিশাল-২ এ ধানের শীষের প্রার্থী প্রত্যন্ত এলাকায় সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। বরিশাল-৩ এ নদীভাঙন রোধ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ইস্যুতে প্রধান প্রার্থীরা মাঠে সরব। বরিশাল-৪ এ চরাঞ্চলকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। বরিশাল-৫ (সদর) হাইপ্রোফাইল আসনে একাধিক দলের প্রার্থী জোর প্রচারে ব্যস্ত। বরিশাল-৬ এ গ্রামগঞ্জে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা। ভোটারদের একটাই প্রত্যাশা—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যেন পোস্টার ও বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভোটের পর বাস্তবে রূপ নেয়। বরিশালের ছয় আসনে তাই এখন প্রতিশ্রুতি, জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতার লড়াইই নির্ধারণ করবে ফলাফল।