শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে সংরক্ষণের অভিযোগে আসমা আক্তার নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত আসমা আক্তার ও তার স্বামী জিয়া সরদার শহরের চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১২ মে রাতে দাম্পত্য কলহের জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা রড দিয়ে জিয়ার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে আসমা ছুরি দিয়ে দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে সংরক্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন স্থানে মরদেহের অংশ ফেলে দেন।
পুলিশ আরও জানায়, শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় মরদেহের কিছু অংশ শহরের পালং এলাকায় একটি বাসার ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমাকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতো। ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এতো জোরে আঘাত লাগবে। পরে চাকু দিয়ে মরদেহ টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। আমি একটা পিঁপড়াও মারিনি। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেলো বুঝতে পারিনি।’
নিহতের স্বজন শাহাদাত হোসেন শাহেদ জানান, জিয়া প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।