বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌপথে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস পুনঃপ্রবর্তনসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান রাজন জানান, ঈদের আগে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস চালু করা, ঈদের পর বরিশাল সেক্টরে অন্তত দুটি বিশেষ ফ্লাইটসহ নিয়মিত বিমান চলাচল চালু রাখা, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন সড়ক নির্মাণ দ্রুত শুরু করা এবং অসমাপ্ত নেহালগঞ্জ ও গোমা সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে। এ সময় বরিশাল বিমান বাংলাদেশের অফিসের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সড়ক জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের মন্ত্রীর কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপি গ্রহণকালে বরিশাল জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বলেন, দাবিনামাগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মিজানুর রহমান, প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, সহ-সভাপতি দেওয়ান আঃ রশিদ নিলু, সিনিয়র সাংবাদিক নাছিম উল আলম এবং সংগঠক দীপু হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
একটি জেলার চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা হলো ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসার কেন্দ্র এই প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু আধুনিক ভবন ও কোটি টাকার বাজেট থাকা সত্ত্বেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের রক্ত সংগ্রহ কক্ষে রক্তদাতাদের হাতে স্ট্রেস বলের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে রক্তচাপ মাপার (বিপি) মেশিনের পুরনো, ফাটা ও নোংরা রাবারের বাল্ব। বিষয়টি শুধু একটি ছোট সরঞ্জামের অভাব নয়, বরং হাসপাতালের তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই স্পষ্ট প্রতিফলন। রক্তদান একটি মানবিক কাজ। একজন মানুষ নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের দায়িত্ব হলো তাকে স্বাস্থ্যকর ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু রক্ত সংগ্রহ কক্ষের বর্তমান চিত্রে সেই ন্যূনতম মানও রক্ষা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে রক্তের ব্যাগ কিনে আনতে হয় এবং সরকারি ফি হিসেবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা জমা দিতে হয়। প্রতিদিন বহু মানুষ রক্ত দিচ্ছেন এবং সেই অর্থও জমা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকশ টাকার স্ট্রেস বল বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা সম্ভব না হওয়াটা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতাল হলো জীবাণুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের স্থান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষের ব্যবহৃত একটি নোংরা বাল্ব ব্যবহার করানো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এতে চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রমণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ছোট ছোট অব্যবস্থাপনাই ধীরে ধীরে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। তারা দ্রুত রক্ত সংগ্রহ কক্ষের সরঞ্জাম আধুনিকায়ন ও সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতাল শুধু ভবন ও বাজেটের প্রদর্শনী না হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে হবে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে টানা দুই দিন ধরে অনশনে বসেছেন এক তরুণী। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের ঢেলাপীর পুলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা. সাকিলা খাতুন (১৮) একই ইউনিয়নের কাছারি বোসনিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ পারভেজ ইসলাম (২৫)-এর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পারভেজের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বুধবার (১১ মার্চ) পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে পারভেজ ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়ার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। পরে সাকিলা এসএসসি পাস করলে পারভেজের পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে তাকে শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হয়। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগী সাকিলা খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পারভেজ ইসলাম তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেছেন। সাকিলার বাবা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা খুব অসহায় মানুষ। প্রাইভেট পড়ানোর সময় থেকেই ছেলেটি আমার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এখন মেয়েটি তাকে বিয়ে করতে চায় বলেই সে ছেলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করছে।” অভিযুক্ত পারভেজ ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। রমজান মাস হওয়ায় ইফতারের পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে একটি বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা (২২)-এর জানাজা বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকা নিচু কলোনীতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দপুর উপজেলার নিচুকলোনী ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে তার নানির কবরের পাশে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন। অনন্যা ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলার নিচু কলোনী বিমানবন্দর পূর্বপাড়া এলাকার অটোরিকশা চালক আব্দুল হান্নানের বড় মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। ছোট বোন নুরে জান্নাত সুবর্ণা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অনন্যা সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে স্থানীয় সানফ্লাওয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনার সময়ই তিনি বিমান বাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদানের সুযোগ পান। প্রায় চার বছর আগে বাহিনীতে যোগ দিয়ে সিলেটে প্রথম কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরিবার জানায়, অটোরিকশা চালক বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিছুদিন আগে বাবার অটোরিকশা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে ওঠেন অনন্যা। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা করতে সোমবার মিরপুর-২ এলাকার একটি শপিং মলে গিয়েছিলেন তিনি। দুপুরে ভবনটির তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতেই তার মৃত্যু হয়। অনন্যার ফুফু ফরিদা পারভীন বুলবুলি বলেন, “আমি তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতাম। চাকরিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিদায় দিতে কষ্ট হয়েছিল, কিন্তু এভাবে হারাবো কখনো ভাবিনি।” সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা জানান, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায় সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে অনন্যার অকাল মৃত্যুতে সৈয়দপুরের নিচু কলোনীসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
নীলফামারীর ডোমারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে মজনু মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দান পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মজনু মিয়া ওই এলাকার মৃত তফির উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আজকে দুপুরের দিকে মজনুসহ কয়েকজন সেখানে গাছ কাটতে যায়। এসময়ে আরেক পক্ষ বাধা দিতে আসলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মজনুকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। পরে গুরুতর আহত দুজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ বিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ বলেন, জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের অভিযানে পাঁচটি বস্তা থেকে ৮৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার চাটকিয়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপপরিদর্শক নুরুল আমিন ও রাসেল রৌহান চৌধুরী। পুলিশ জানায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মাদক পাচারের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মাথায় বহন করা পাঁচটি বস্তা ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাগুলো থেকে মোট ৮৬ বোতল ভারতীয় ব্র্যান্ডের মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদ জব্দ করে নালিতাবাড়ী থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন এসআই নুরুল আমিন।
ইসলামিক বিধান অনুযায়ী, সুদভিত্তিক ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করা শারীয়ত দ্বারা বৈধ নয়। যারা এমন ঋণ নিয়েছেন, তাদের জন্য জরুরি হলো দ্রুত ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে সুদ থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করা। ঋণের ধরণ অনুযায়ী জাকাত হিসাব পরিবর্তিত হয়। দীর্ঘমেয়াদী বা কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে, সেই বছরের মধ্যে যেটুকু টাকা/সম্পদ পরিশোধ করা হয়েছে, সেটুকুই জাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ দিতে হবে। সম্পূর্ণ ঋণকে একবারে বাদ দিয়ে জাকাত হিসাব করা সঠিক নয়। জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মূল উপায়। নিসাব (স্বর্ণ ৭.৫ ভরি বা রূপা ৫২.৫ ভরি) পরিমাণ সম্পদ যদি এক বছরের জন্য সঞ্চিত থাকে, তবে তার ২.৫% বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত প্রদান ফরজ। এই নিয়ম সম্পদকে পবিত্র রাখে এবং সমাজে ন্যায্য বিতরণ নিশ্চিত করে।
নরসিংদী সদর উপজেলার নূরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ আরিফ হোসেনকে পুনর্বহাল সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেছে হাইকোর্ট বিভাগ। আজ ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে এ নির্দেশনা প্রদান করে। রায়ের সংক্ষিপ্ত তথ্যে জানা যায় যে, মোঃ আরিফ হোসেন ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নূরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত। এরপর গত ২৯ মার্চ ২০২৩ তারিখ থেকে তিনি নিয়মিতভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) প্রদান না করে এবং আইনানুগভাবে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) না করেই তার ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (Upazila Implementation Officer) নিকট ন্যস্ত করা হয়। উক্ত আদেশকে বেআইনি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইনবহির্ভূত দাবি করে মোঃ আরিফ হোসেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। উক্ত রিট মামলায় মোঃ আরিফ হোসেনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার মনির হোসেন। হাইকোর্ট বিভাগ শুনানি শেষে আজ ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি রুল জারি করেন এবং উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান সংক্রান্ত আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত (Stay) করেন। একই সাথে বিজ্ঞ আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীগণকে মোঃ আরিফ হোসেনকে নূরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করার নির্দেশনা প্রদান করেন। এই আদেশের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছ'।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর এক সক্রিয় সহযোগীকে আটক করেছে। অভিযানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি একনলা বন্দুক ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দয়াল বাহিনীর সদস্য আব্দুল হালিম রসদ সরবরাহের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে প্রবেশ করবে। এরপর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান যৌথভাবে খুলনার দাকোপ থানার শিবসা নদী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। আটক আব্দুল হালিম (৩৬), শ্যামনগর থানার বাসিন্দা, দীর্ঘদিন ধরে দয়াল বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করে আসছিলেন। উদ্ধারকৃত আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর মিরপুরে একটি বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা (২২) মারা গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে পরিবার ও এলাকার মানুষদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমেছে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, সোমবার দুপুরে মিরপুর-২ এর ১১ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় অনন্যা শপিং মলে গিয়েছিলেন। হঠাৎ সেখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। কিন্তু রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অনন্যার চাচা আবুল কালাম আজাদ জানান, পরিবারটি দরিদ্র হলেও অনন্যার চাকরির মাধ্যমে সামান্য স্বাবলম্বী হয়েছিল। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবারে শোকের ছায়া ফেলেছে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাছির জামালকে এক বছরের মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক এই দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সিনিয়র সহকারী মহাসচিব এবং দৈনিক আমার দেশের চিফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৪-এর ধারা ১০(২) অনুযায়ী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক শেষ করার শর্তে বাছির জামাল এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বাছির জামাল পূর্বে ট্রাস্টের দায়িত্ব সামলানো জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম আব্দুল্লাহ-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ পদে নিয়োগ জনস্বার্থে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলা একটি আদর্শ জেলায় পরিণত হতে পারে। সোমবার (৯ মার্চ) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ময়মনসিংহ শহরের যান চলাচল অনেকটাই সহজ করা সম্ভব। হাসপাতাল ও রাস্তার উপর দোকান বসানো এবং পার্কিংয়ের অভাবজনিত সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জ্বালানি পর্যাপ্ত হলেও কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং একাধিকবার জ্বালানি তোলা হচ্ছে, যা নজরদারিতে রাখা হবে। এছাড়া কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিষয়েও অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করেছে। মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বাজার ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ দমনে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য, জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, র্যাব ও বিজিবি কর্মকর্তারা।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে রেলওয়ের জমি দখল করে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে ভাড়া আদায় করা এবং বর্তমানে বৈধ লাইসেন্সধারী এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত অত্যাচারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ্। এ ঘটনার কারণে তিনি গত দুই দিন ধরে দোকান খুলতেও পারছেন না। ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ্ জানান, ফকিরহাট উপজেলা মোড়ে রেলওয়ের জমিতে তিনি গত ২৫ বছর ধরে চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। এই জমিতে ভাড়া নেওয়ার অধিকার না থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী ও ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আবু রাসেল দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করতেন। গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আব্দুল্লাহ্ নিজে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে বৈধ লাইসেন্স সংগ্রহ করলে চক্রান্ত ও হুমকির মাত্রা বেড়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে বিবাদী আবু রাসেল ও তার সহযোগী বিশ্বাস শাজ্জাদ হোসেন সাজু চাঁদা দাবি করছেন এবং বিভিন্ন সময় দোকান থেকে মালামাল লুট করার ঘটনাও ঘটাচ্ছেন। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ তাঁকে আগামী শুক্রবারের মধ্যে দোকান খালি করার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় জোরপূর্বক দোকান দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা আব্দুল্লাহ্ বলেন, “আমি রেলওয়ের বৈধ লাইসেন্সধারী। সরকারি জমি নিজের দখলে রাখতে আমি নিয়ম মেনে সব কাজ করেছি। কিন্তু এই প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে আমি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি। তারা আমার রুটি-রুজির একমাত্র সম্বলটি কেড়ে নিতে চায়। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার এবং শান্তিতে ব্যবসা করার নিশ্চয়তা চাই।” অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা গেলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, “উক্ত বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বৈধ ব্যবসায়ী তার দোকান নিরাপদে চালাতে পারে এবং অনিরাপত্তার এই চিত্র বন্ধ হয়।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করেছে। জয়মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে স্থানীয় প্রায় ২০০ জন দরিদ্র, অসহায় ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোস্ট গার্ড নিয়মিতভাবে জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে না, পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হচ্ছে। ভবিষ্যতেও কোস্ট গার্ড এই ধারা অব্যাহত রাখবে।” মেডিক্যাল ক্যাম্পে স্থানীয় বাসিন্দারা কোস্ট গার্ডের মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। উপস্থিত চিকিৎসকরা স্থানীয়দের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাধারণ রোগের চিকিৎসা ও প্রাথমিক ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিজস্ব অভিযোজন কৌশল ও উদ্ভাবনী জীবনসংগ্রাম তুলে ধরতে এক ব্যতিক্রমধর্মী স্থানীয় অভিযোজন মেলা ও জলবায়ু সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট পাইকের মোড় বিলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। মেলায় উপকূলীয় জীবন, কৃষি, মাছধরা, স্থানীয় বীজ, বনজীবী জীবিকা, হস্তশিল্প এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার প্রদর্শিত হয়েছে। এছাড়া শুকনা খাবার প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন। বারসিকের পরিচালক ও প্রাণবৈচিত্র্য গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, “উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করলে টেকসই জলবায়ু অভিযোজন নিশ্চিত করা সম্ভব।” বক্তারা আরও বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী দেশীয় বীজ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিজস্ব কৌশল দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে স্থানীয় জলবায়ু অর্থায়ন ও পরিকল্পনার সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযুক্তি না থাকলে অভিযোজন কার্যক্রম সীমিত থাকবে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর এলাকায় রোববার (৮ মার্চ) বিকাশ এজেন্ট মোঃ মোখলেছুর রহমান (৩৫) কে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার ১০ ঘন্টায়ও পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি। পুলিশ জানায়, আড়াইটার দিকে মোটরসাইকেল যোগে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন মোখলেছুর। পথে ৪–৫ জনের একটি দল ওৎ পেতে ছিল। তারা তার পথরোধ করে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেন। স্থানীয়রা আহতকে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
মাদারীপুরের নতুন এলাকায় রাতভর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ অন্তত শতাধিক দেশীয় হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকার জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতা আক্তার হাওলাদার ও হাসান মুন্সির মধ্যে বিরোধ চলছিল। সংঘর্ষের সময় তারা টর্চলাইট জ্বালিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের সদস্যদের মুখ গামছা দিয়ে ঢাকা দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, অতীতেও এই দুই পক্ষের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ হয়েছে। আগের অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা জব্দ করা হয়েছিল। রবিবার রাতের সংঘর্ষের পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আটটি শেল নিক্ষেপ করে। মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঘটনা নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নে নারীদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার ঘটনার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী নূরজাহান খানম ইতি জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আদিয়াবাদ সরকারি ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে প্রায় ৮০–৮৫ জন নারী-পুরুষ একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলেন। তখন বিএনপির স্থানীয় নেতা নাজমুল হক বাদলসহ তার সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে এসে বাধা দেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালান। হামলায় সামসু উদ্দিন খান ও রোকসানা ওয়াহিদসহ অনেকে আহত হন এবং নারীদের বোরকা টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। ঘটনার ৮ দিন পর থানা থেকে অভিযোগে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা রুজু হয়নি। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মানহানির ঘটনাও ঘটাচ্ছে। রায়পুরা থানার ওসি মজিবর রহমান বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযোগ সংশোধনের কারণে দেরি হয়েছে জানালেও দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল থেকে।
রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, ভবনের ছাদ থেকে এ পর্যন্ত চারজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ছাদে পাঁচ-ছয়জন আটকা পড়া অবস্থায় রয়েছেন, যারা ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সৌভাগ্যক্রমে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানায়, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় একটি ছোট চুরির ঘটনা রাতারাতি সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে। উপজেলা গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের ১৯ বছর বয়সী মাসুম নামের এক যুবক, যে শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে কয়েকটি হাঁস চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল, স্থানীয় সালিশে নাকে খত দেওয়া এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হওয়ার পর রোববার (৮ মার্চ) বিকালে নিজের বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বসানো সালিশে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মাসুম এবং তার সহযোগী চুরি করা হাঁস বিক্রি করেছিলেন। ঘটনার পর থেকে এলাকার অন্যান্য যুবকরা তাকে কয়েক দফা হুমকি ও মারধর করেছিল। সালিশের সময়ও মাসুম এবং তার মাকে অপমানজনক ভাষায় সমালোচনা করা হয়, যা তার মানসিক সহনশীলতার বাইরে গিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার দিকে প্ররোচিত করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাসুমের মৃত্যু শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি পুরো গ্রামের যুব সমাজ ও সালিশ প্রথার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরিবার এবং প্রতিবেশীরা প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন, ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সোমবার (৯ মার্চ ) পোস্ট মর্টেমের জন্য চাঁদপুর পাঠিয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার বিষয়ে থানার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি আইনগতভাবে তদন্তাধীন।
রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের পরিবর্তনের পর কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ গ্রেফতার হলে গত ডিসেম্বর মাসে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। এর আগে ২০১৯ সালে সংগঠনের দশম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে সমীর চন্দ সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়, যা পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের সময়েও অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গ্রেফতার হওয়া অনেকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ এনে মামলাও করা হয়েছে।