নীলফামারীর সৈয়দপুরে তীব্র শীতের কারণে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও অসহায় মানুষ। শহরের স্বচ্ছলরা লেপ–তোষক তৈরি করলেও গ্রামের দরিদ্র মানুষ কম দামে ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকেই শীতবস্ত্র কিনে শীত মোকাবিলা করছেন।
কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বাঙ্গালিপুর ও বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ভ্যান, মোটরসাইকেল ও কাঁধে করে লেপ–তোষক বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে ফেরিওয়ালাদের। এসব লেপ–তোষকে তুলনামূলক সস্তা গার্মেন্টস তুলা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে চাইলে দামি তুলায়ও তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ লেপ–তোষক বিক্রেতা আজাদ হোসেন জানান, তারা ১০ জনের একটি দল সৈয়দপুর শহরে ভাড়া বাসায় থেকে প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে লেপ–তোষক বিক্রি করেন। বগুড়ার মোকাম থেকে মহাজনের পাঠানো পণ্য বিক্রি করে যে কমিশন পান, তা দিয়েই সংসার চলে।
ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় সৈয়দপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোরে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শীতজনিত রোগ বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, বর্তমানে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েক দিনে তা আরও ১–২ ডিগ্রি কমতে পারে এবং কুয়াশা আরও ঘন হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, উপজেলায় ৬৮৪টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও ৪০০টি কম্বল আসবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুটি আসনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে তা বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষিত হওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসনসহ দুটি আসনে নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে পূর্বঘোষিত নির্বাচন স্থগিত থাকায় বর্তমানে সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বগুড়া-৬ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর মো. আল-আমিন তালুকদার। এ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের ৮৩৫টি কক্ষে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর মো. মিজানুর রহমান। এ আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি কক্ষে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন ভোটার অংশ নিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুই আসনেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির বিপুলসংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে বিস্তৃত নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজারের মতো প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া দুই আসনেই পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-এমই-ডব্লিউই-৫ এর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আগামী তিন দিনে দেশের ইন্টারনেট সেবায় সাময়িক ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৯ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত কুয়াকাটা অবস্থানকৃত এই ক্যাবলে রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরমুখী সার্কিটগুলো সাময়িকভাবে প্রভাবিত হওয়ায় গতি কমে যাওয়ার বা আংশিক সেবা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল সি-এমই-ডব্লিউই-৪ (কক্সবাজার) এর মাধ্যমে সংযুক্ত সার্কিট সচল থাকায় পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি নেই। রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হওয়ার পর ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক গতিতে পুনরায় চালু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. মামুন ফরাজী (৩৩) নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চালক সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা সংশ্লিষ্ট বাসটি আটক করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।