বাগেরহাটের ফকিরহাট সদর এলাকার প্রভাস দাসের একমাত্র সন্তান তিতাসের জীবন এখন ঝুঁকিতে। ৫ বছর বয়সী তিতাসের জন্মগত হৃদযন্ত্রের বড় ছিদ্র রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে শিশুটির জীবন বিপন্ন হবে। অস্ত্রোপচারের খরচ প্রায় ৫ লাখ টাকা, যা একজন সেলুন কর্মী প্রভাস দাসের জন্য অজাচার্য।
ফকিরহাট কলেজের পাশে ভাড়া বাসায় পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করছে প্রভাস। বৃদ্ধ বাবা বার্ধক্যজনিত রোগে শয্যাশায়ী। সংসারের দৈনন্দিন খরচ, বাবার ওষুধ ও মেয়ের খাওয়া দাওয়ার খরচ মেটাতে প্রভাস দিনের পর দিন সেলুনে কাজ করেন। তিতাসের অসুস্থতা এই দারিদ্র্যের মধ্যেই পরিবারের উপর আরও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রভাস দাস জানান, “ছেলের অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ লাখ টাকা কোথায় পাব—নিজের কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে, কিন্তু করার কিছু নেই।” তিতাসের মা কান্নায় ভেঙে পড়েন, “ও তো এখনও কিছুই বোঝে না। মাঝে মাঝে বলে, ‘মা, আমি কি আর ভালো হবো না?’ আমরা নিজস্ব সামর্থ্যে ওকে বাঁচাতে পারছি না। মানুষের কাছে অনুরোধ, আমাদের ছেলেটাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।”
চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো অস্ত্রোপচার হলে তিতাস স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। প্রভাস দাস পরিবার সমাজের সহমর্মী মানুষদের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
সহায়তা দিতে যোগাযোগ: বিকাশ/নগদ 01919477278 (শিশু পুত্রের পিতা)
ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ পুড়ে অচল হয়ে পড়া বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি কোচ মেরামতের পর আবারও সচল করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা–এ। ৭৯৩৬ নম্বর কোচটি নতুন রূপে সাজিয়ে রেলের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৬ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে ঢাকার গোপীবাগ এলাকায় বেনাপোল এক্সপ্রেস–এ দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। এতে ৭৯৩৬ নম্বর কোচটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং ওই কোচে থাকা চারজন যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি–এর মেধাবী ছাত্র আবু তালহাও ছিলেন। পরে কোচটি মেরামতের জন্য ২০২৪ সালের ১৩ জানুয়ারি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হয়। কারখানার শিডিউল শাখার উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমিন রুবেল জানান, কোচটি দীর্ঘদিন সৈয়দপুর ইয়ার্ডে অপেক্ষমাণ ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারী মেরামতের জন্য তা কারখানার ক্যারেজ শপে পাঠানো হয়। সেখানে ৫২ কর্মদিবস কাজের মাধ্যমে ভারী মেরামত শেষে কোচটি আবার সচল করা হয় এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। কোচটি ২০২৪ সালেই চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল। কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমে কোচটি নতুনের মতো করে তৈরি করা হয়েছে। এখন দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একসময় আগুনে পুড়ে অচল হয়ে পড়েছিল। এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ জানান, ৭৯৩৬ নম্বর কোচটি এবার ঈদের যাত্রী পরিবহনে রেলবহরে যুক্ত করা হবে। এছাড়া নির্ধারিত টার্গেটের চেয়েও বেশি—১২৬টি কোচ মেরামত করে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার টাউন-নওয়াপাড়া মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাদল রায় চৌধুরী ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ গ্রামের মৃত অনন্ত রায় চৌধুরীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী একটি অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ঘাতক পিকআপ ভ্যানটির সন্ধান করা হচ্ছে এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে দুর্বৃত্তের গুলিতে সোহাগ শেখ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা পানের হাটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগ শেখ একই ইউনিয়নের দৈবকান্দী গ্রামের দাউদ শেখের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, রাতে সোহাগ শেখ গাড়ফা পানের হাট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে কাজী রমজানুল হক জানান, দুর্বৃত্তের গুলিতে সোহাগ শেখ নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।