জামালপুরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের ৬২৩টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
সকাল সাড়ে ৭টার আগেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবার পাশাপাশি গণভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারায় আনন্দিত তারা।
৫টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বদন্দিতা করছেন।
বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ)
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: ৫ জন
মোট ভোটার: ৪,৩১,৭০৭ জন
পুরুষ: ২,১৬,২০৭ জন
নারী: ২,১৫,৪৯৮ জন
নতুন ভোটার: ৩০,২০৮ জন
পোস্টাল ভোট: ২,৮২০ জন
ভোটকেন্দ্র: ১২৮টি
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ৫৬টি
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ২৯টি
জামালপুর-২ (ইসলামপুর)
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: ৪ জন
মোট ভোটার: ২,৮২,০৮৮ জন
পুরুষ: ১,৪৪,৪৫৮ জন
নারী: ১,৩৭,৬২৯ জন
নতুন ভোটার: ১৭,১৮১ জন
পোস্টাল ভোট: ২,০২৭ জন
ভোটকেন্দ্র: ৯২টি
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ২২টি
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ১০টি
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ)
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: ৯ জন
মোট ভোটার: ৫,৩৯,৫০৩ জন
পুরুষ: ২,৭৪,২৫৮ জন
নারী: ২,৬৫,২৩৯ জন
নতুন ভোটার: ৩৭,৬৮৪ জন
পোস্টাল ভোট: ৪,৮১৬ জন
ভোটকেন্দ্র: ১৫৪টি
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ৪৩টি
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ১৯টি
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী)
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: ৬ জন
মোট ভোটার: ৩,০৪,৯৯২ জন
পুরুষ: ১,৫১,৫২৮ জন
নারী: ১,৫৩,৪৬৩ জন
নতুন ভোটার: ১৫,৭৩১ জন
পোস্টাল ভোট: ২,৪৫৫ জন
ভোটকেন্দ্র: ৮৮টি
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ১৬টি
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ৯টি
জামালপুর-৫ (জামালপুর সদর)
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: ১০ জন
মোট ভোটার: ৫,৭৬,৮০৮ জন
পুরুষ: ২,৮১,৭৪৬ জন
নারী: ২,৯৫,০৫২ জন
নতুন ভোটার: ৩৪,৩২৮ জন
পোস্টাল ভোট: ৪,১৭৯ জন
ভোটকেন্দ্র: ১৬১টি
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ৭৫টি
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ৫৫টি
শেরপুর সদর উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুর-১ আসনের নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুটি ব্যালট বই জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। কেন্দ্র সূত্র জানায়, ১০০ পৃষ্ঠার একটি সংসদ নির্বাচনের ব্যালট বই এবং একটি গণভোটের ব্যালট বই ছিনতাই করা হয়। পরে ধানের শীষ প্রতীকে সিল দেওয়া অবস্থায় ৬০টি সংসদীয় ব্যালট উদ্ধার হলেও গণভোটের পুরো ব্যালট বই এবং সংসদ নির্বাচনের অবশিষ্ট ব্যালট উদ্ধার করা যায়নি। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহীদুল আলম জানান, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি কেন্দ্রে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভোট পুনরায় শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যালটগুলো বিধি অনুযায়ী বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসান জানান, ছিনতাই হওয়া ব্যালট উদ্ধারে অভিযান চলছে। এদিকে একই দিনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেরুয়া বালুরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন আহত হন। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) আসনে উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচনের একদিন আগে জাতীয় পার্টির মুলাদী উপজেলা সদস্য সচিব মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মুলাদী উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তার বাড়ির সামনে স্থাপিত লাঙ্গল প্রতীকের একটি নির্বাচনী প্রচারকেন্দ্র ভাঙচুর করা হয়। এ সময় আরিফ হোসেন বাড়িতে না থাকায় তাকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদ করলে বাড়ির কেয়ারটেকারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির ওই নেতা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা অপু মোল্লা ও শাওন হাওলাদারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া টিপুর প্রধান সমন্বয়ক ও তার কন্যা হাবিবা কিবরিয়া ফারিয়া বলেন, নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নরসিংদী জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামগ্রী ও ব্যালট পেপার পাঠানো হচ্ছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ছয়টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব সরঞ্জাম গ্রহণ করছেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানান, ৬৬৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরাসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলার পাঁচটি পৌরসভা ও ৭১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৩ হাজার ৪ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩৬ জন। এসব আসনে মোট ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা শাহেনশা আল-মামুন বলেন, দীর্ঘ সময় পর ভোটের পরিবেশ ফিরেছে। ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো হবে।