নীলফামারীর সৈয়দপুরে মুসলিম এইডের সহায়তায় ও উদ্দীপনের উদ্যোগে ২২৫টি পরিবারের মাঝে মাহে রমজান উপলক্ষ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কামারপুকুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে সৈয়দপুর উপজেলার ওইসব হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়।
বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল ২০ কেজি চাল, আলু, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, লবণ, খেজুর, মুড়ি, ছোলা বুট, নুডলস ইত্যাদি।
কামারপুকুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাসিমা খাতুন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রমজানের এসব খাদ্য সামগ্রী দরিদ্র পরিবারের উপস্থিত সদস্যদের হাতে তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুসলিম এইডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর প্রসেনজিৎ রায়, উদ্দীপনের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মাহবুল আলম, নীলফামারীর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আব্দুল আউয়াল প্রমুখ।
উদ্দীপনের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মাহবুল আলম বলেন, মুসলিম এইডের আর্থিক সহায়তায় সৈয়দপুরের ২২৫টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে রমজানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে উদ্দীপন। দরিদ্র এসব পরিবার রোজা পালন করছেন কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ভালো খাবার খেতে পারছে না। এই দারিদ্রতার কথা চিন্তা করে উদ্দীপন এগিয়ে আসছে তাদেরকে সহায়তা করতে। অল্প সংখ্যক পরিবারের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হলেও এর মাধ্যমে সমাজের বিত্তবান মানুষরা বিশেষ করে রমজানে এসব দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
মুসলিম এইডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর প্রসেনজিৎ রায় বলেন, হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ। রমজান মাসের শুরুতেই সৈয়দপুরের ২২৫ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে রমজানে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হলো। তিনি বলেন, মুসলিম এইড সবসময়ই সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। রমজানে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের মতো শীতবস্ত্র ও কুরবানী ঈদে মাংস বিতরণের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীকে গ্রেফতার করেছে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। গ্রেফতারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রযোজ্য ধারায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, সফুরা বেগম রুমী লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। বিস্তারিত আসছে....
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বর্মন পরিবারের উত্তরসূরি সুব্রত প্রসাদ বর্মন (মিঠু) অভিযোগ করেছেন, তাদের পৈতৃক হাবেলী সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্মন পরিবারের পূর্বপুরুষ জমিদার বিজয় প্রসাদ বর্মন বেনিসিংহের হাবেলী এলাকায় বিস্তীর্ণ জমির মালিক ছিলেন। মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিন পুত্র—দেবপ্রসাদ (শান্তি), অনিল প্রসাদ (বরুন) ও সুনীল প্রসাদ (খোকন)—সম্পত্তি পান। ১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের অধীনে কিছু জমি মৌলভী আব্দুস সোবাহানের কাছে হস্তান্তরিত হলেও, দলিলে মনসা মন্দির ও পারিবারিক সমাধিস্থল উপাসনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ক্রমিক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই জমি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে চলে যায়। তিনি সংরক্ষিত মনসা মন্দির ও সমাধিস্থলের অংশ ভেঙে নিয়েছেন। সুব্রত প্রসাদ বর্মন বলেন, “দুইশত বছরের পুরনো জাগ্রত মনসা মন্দির ও পূর্বপুরুষদের সমাধি আমাদের সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও এখন আমরা সেখানে যেতে পারি না, পূজা-অর্চনাও করতে পারছি না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের ১২৫৮ দাগের ৭ শতাংশ জমি বিক্রি হয়নি এবং তা বর্তমানে বিএস ৫৪২৯ নং খতিয়ানে তাদের নামে চূড়ান্ত হলেও বাস্তবে ভোগদখল করতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বরিশালের প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানান, দখলমুক্ত করে পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে। সুব্রত প্রসাদ বর্মন অভিযোগ করেন, দখলকারীর সঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা। উল্লেখ্য, হাবেলীর ঐতিহ্যবাহী দোতলা প্রাচীরঘেরা বর্মন বাড়িটি ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে ডিজেল, মবিল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে হালিম সিকদার নামে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআই’র বরিশাল জেলা শাখার সদস্যরা সরিকল ইউনিয়নের চর সরিকল গ্রামে তার দোকান ও বাড়িতে অভিযান চালান। এসময় সেখান থেকে প্রায় ৩০০ লিটার ডিজেল, ২০০ লিটার মবিল ও গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি লাইসেন্স না নেওয়া পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়। জব্দকৃত জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।