পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন ঢাকা মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ কয়েকজনের নাম সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। আইনের বিধান অনুযায়ী তাদের আসামি করা সম্ভব।
বিস্ফোরক আইনের মামলায় এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ১,২০০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০০ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটি এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটে।
কৃষি খাতে ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের প্রি-পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে আগামী ১৪ এপ্রিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ কার্যক্রমের আওতায় একই দিনে দেশের ১০টি উপজেলায় একযোগে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৬’। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে তা অনুমোদন পায়। আইনটির উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট আদর্শকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা। এর আগে একই প্রেক্ষাপটে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সংবলিত বিধানও সংসদের সর্বসম্মত সমর্থনে অনুমোদিত হয়, যা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় প্রদান করবে। মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২৭ জানুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরবর্তীতে ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। তবে ২০২৪ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোটা পুনর্বহাল হলে শিক্ষার্থীরা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে পুনরায় প্রতিবাদে নামে। একই বছরের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে, যা দেশব্যাপী আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়। এ প্রেক্ষাপটে রংপুরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া আবু সাঈদকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিকট থেকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ঘটনাটির ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। আজকের রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ বিরাজ করছে।