ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন ঘটেছে। দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুর পর তার পুত্র মোজতবা খামেনি–কে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার আওতায় ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতাসীন নিরাপত্তা কাঠামো, বিশেষত বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)–এর প্রভাব এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে; যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মাশহাদে জন্মগ্রহণকারী মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ধর্মীয় শিক্ষা ও সামরিক কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলয়ে প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন।
তার নেতৃত্ব গ্রহণের সময় ইরান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অবস্থান করছে। নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে তিনি এখন সংবিধান নির্ধারিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় আনুষ্ঠানিকভাবে অবতীর্ণ হলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংসের দাবি জানালেও, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা ফ্রন্টলাইনে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে কাজ করা কয়েক ডজন লঞ্চার ধ্বংস করেছি। হামলা অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কমানোর চেষ্টা করা হবে। তবে ইরানের উল্লেখযোগ্য নিক্ষেপ ক্ষমতা এখনও অক্ষত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এত শক্তিশালী যে তা অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এছাড়া অভিযানে ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েকটি বোমারু বিমান অংশগ্রহণ করছে। কুপারের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি। তিনি বলেন, লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব থেকে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ইরানের নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে এবং তাদের প্রধান সাবমেরিন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে। সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার স্পেস—তিনটি ক্ষেত্রেই অব্যাহত অভিযান চলছে। সেন্টকম প্রধানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা করা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার (৪ মার্চ) একটি অবগত সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনটি সম্ভাব্যভাবে ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত নয় যে দূতাবাস চত্বরে অবস্থিত সিআইএ-এর স্টেশনটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তু ছিল কিনা। এ বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।