প্রধানমন্ত্রী নারীদের সমান অধিকার ও ক্ষমতায়নের প্রতি জোর দিয়েছেন আন্তর্জাতিক নারী দিবসে
শুক্রবার (৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেছেন, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের ক্ষমতায়নে পূর্ববর্তী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে সমাদর করা হবে। বর্তমান সরকারও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যক্রম চালাচ্ছে, যার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অন্যতম।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, নারীর নিরাপত্তা সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে এবং সাইবার বুলিং ও অনলাইনে হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি দেশটিকে এমন একটি সমাজ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে পারবে।
পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের সৌদি আরব গমন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২০ হাজার ৫৫৩ জন হজযাত্রী ৫১টি ফ্লাইটে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সরকারি বুলেটিনে জানানো হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদি এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাস পরিচালিত পৃথক ফ্লাইটসমূহের মাধ্যমে এসব যাত্রী পরিবহন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৮৩০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী সৌদিতে গমন করেছেন। এদিকে হজ পালনকালে নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) নামের এক বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ মে পর্যন্ত যাত্রী প্রেরণ অব্যাহত থাকবে। পরবর্তীতে ৩০ মে থেকে হজ শেষে প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি প্রযোজ্য আইন, বিধি ও প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুসরণ করে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে অধিকতর স্বচ্ছ, দ্রুত এবং গ্রাহককেন্দ্রিক করতে নতুন নীতিগত নির্দেশনা জারি করেছে সরকার, যেখানে সেবা সহজীকরণ ও প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাসে একাধিক কার্যকর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় সেবা কাঠামোকে গ্রাহকবান্ধব ও সহজতর করার লক্ষ্যে এ পরিপত্র কার্যকর করা হয়েছে। নির্দেশনাসমূহ: (ক) অনুমোদিত ঘণ্টাপ্রতি গ্যাস লোড অপরিবর্তিত রেখে সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস ও প্রতিস্থাপন সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানির তালিকাভুক্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে কমিশনিং করতে হবে; এ ক্ষেত্রে গ্যাস বিতরণ কোম্পানির পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে না। (খ) একই আঙ্গিনায় অবস্থিত ও একই মালিকানাধীন শিল্প ইউনিটের অব্যবহৃত গ্যাস লোড গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক/আঞ্চলিক প্রধানের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানান্তরযোগ্য হবে। (গ) একই আঙ্গিনায় অবস্থিত শিল্প ইউনিটে ক্যাপটিভ পাওয়ার শ্রেণির লোড প্রয়োজনে শিল্প শ্রেণিতে স্থানান্তর করা যাবে; তবে শিল্প শ্রেণির লোড কোনো অবস্থাতেই ক্যাপটিভ পাওয়ার শ্রেণিতে স্থানান্তর করা যাবে না। (ঘ) গ্যাস মিটার স্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে স্থাপন সম্পন্ন করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে গুণগত মান যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি এ নির্দেশনায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সেবাপ্রাপ্তির সময়সীমা কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি তেলের মূল্য ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের নতুন দর কার্যকর হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। নতুন সমন্বয়ে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একনজরে নতুন দাম (প্রতি লিটার): • ডিজেল: ১১৫ টাকা (আগে ছিল ৯৯ টাকা, বৃদ্ধি ১৫%) • কেরোসিন: ১৩০ টাকা (আগে ছিল ১১২ টাকা) • অকটেন: ১৪০ টাকা (আগে ছিল ১২০ টাকা) • পেট্রল: ১৩৫ টাকা (আগে ছিল ১১৬ টাকা) অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় নীতির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বলছে, দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই এবং চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, আতঙ্কিত ক্রয় প্রবণতা বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি করলেও সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।