পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, জুলাই এর চেতনাকে ধারণ করে আমাদের এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের হাতে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের চাবি তুলে দেয়া হয়েছে। এই হ্যাঁ ভোট প্রদানের মাধ্যমে এ দেশে পরিবর্তন আসবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল সম্মেলন কক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য ও খাগড়াছড়ি জেলার ছাত্র প্রতিনিধি রাকিব মনি ইফতি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেনাসদস্য ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর এক সেনাসদস্য ও তার ভাইকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃত রোগীর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুললে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আহত হন সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল সোহেল আলী (২৯) এবং তার ভাই জয় আলী। পরিবার অভিযোগ করেছে, মায়ের মৃত্যুর কারণ জানতে গিয়ে ভিডিও ধারণের সময় তাদের মারধর করা হয় এবং একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোগীর স্বজনরা চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা দেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং সরকারি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেন। মামলার ভিত্তিতে জয় আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং সেনাসদস্য সোহেল আলীকে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে তদন্ত চলছে। এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংগঠন দাবি করেছে, তারা ধারাবাহিকভাবে ‘মব হামলা’র শিকার হচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে এবং হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে, যা চিকিৎসা পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সেনাসদস্যের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, চিকিৎসা অবহেলার বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা তিনদিন পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সোমবার রাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত এ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সময়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপারও বন্ধ থাকবে। বন্দর ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ ও ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ কেফায়েতুল ওয়ারেস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়া শুক্রবার (সরকারি ছুটির দিন) বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হলেও ওই দিন ভারত, নেপাল ও ভুটানগামী পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
পঞ্চগড়ে হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কোনো ধরনের “ব্লেম গেমে” যেতে চায় না; বরং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করাই মূল লক্ষ্য। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার শিংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় ১৮টি জেলায় ও ৩০টি উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এমআর ভ্যাকসিন ও ভিটামিন-এ কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। গুজবে কান না দিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের টিকা দিতে তিনি আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে এবং দেরি না করার পরামর্শ দেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, পঞ্চগড়ে এবারের ক্যাম্পেইনে ১ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।