বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপিকে দমন করা সম্ভব নয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সঙ্গে আয়োজিত ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক বলেন, ‘দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নেতাকর্মীরা গুম, খুন ও হয়রানির শিকার হলেও কেউ রাজপথ ছাড়েনি। এক ভাই গুম হয়েছেন, আরেকজন রাস্তায় নেমেছেন। বিএনপির কর্মীরা কৌশলের আড়ালে লুকোছাপা করে চলেনি।’
তিনি আরও জানান, ‘হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে। অনেককে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। তবে নেতাকর্মীদের প্রতি আমাদের আন্তরিকতা ছিল এবং থাকবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘বিভীষিকাময় সেই সময় অতীত, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছে। যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা সর্বোচ্চ সহমর্মিতা দেখাচ্ছি।’
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শহরের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব দুষ্কৃতকারীকে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ৩৩০ জনের তালিকায় আরও নাম রয়েছে রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সাইফুল আলম লিমন, সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে গাজী শফিউল আজিম, শৈবাল দাশ, সাহেদ ইকবাল, জহরুল আলম জসিম, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, নাজমুল হক, হাসান মুরাদ, গিয়াস উদ্দিন, নূর মুস্তাফা, আবুল হাসনাত বেলাল, মোবারক হোসেনসহ নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর। তালিকায় সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী, তাঁর সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন (ছোট সাজ্জাদ), মোবারক হোসেন, মোহাম্মদ রায়হান, খোরশেদ, ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিন, ইসমাইল হোসেন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যা, নুরুল আলম উরফে হামকা আলম। পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ, শহিদুল ইসলামসহ সন্ত্রাসীরা চাঁদা ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য নগরে প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি করে আসছে। খুনের ঘটনাও করছে। এ দিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করে আসছেন। ২০০০ সালের ১ অক্টোবর একে-৪৭ রাইফেলসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বড় সাজ্জাদ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলীফাইল ছবি এদিকে তালিকায় নগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর নামও রয়েছে। এর মধ্যে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা, বাকুলিয়া থানা বিএনপির নেতা মোর্শেদ খান, কোতোয়ালির যুবদল নেতা হাসান, পাহাড়তলীর মাসুমের নাম রয়েছে। তালিকায় সন্ত্রাসী ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নাম থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার অপরাধ অভিযান ফয়সাল আহম্মেদ সাংবাদিকদরে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ও গোপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে আসছে। তাই তাদের বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম ও হত্যার শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, “অনেক সন্তান আজও অপেক্ষায় আছে—তাদের হারানো বাবা একদিন ফিরে এসে দরজায় কড়া নাড়বেন। বহু মা এখনো আশায় আছেন, হারানো সন্তান আবার ‘মা’ বলে ডাকবে। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা রাষ্ট্রের জন্য দায়বদ্ধতার বিষয়।” সভায় তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দলের হাজারো নেতা-কর্মী নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ ও গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির কর্মীরা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ধারণ করেছেন এবং দলে ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। তারেক রহমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজনীয়তা ও নির্বাচনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, “গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুম ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকারদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। শহীদ ও গুমের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠিত হলে শহীদ পরিবার ও তাদের আত্মত্যাগ স্মরণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ ও আশপাশ) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। প্রায় ১৭ বছর পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। দল গুছানো, ঘরে ঘরে পৌঁছানো, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তারা। ইসলামী সমমনা জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমীর মো. খায়রুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এবং খেলাফত মজলিশের রুহুল আমীন কাসেমী। স্থানীয় ভোটারদের মতে, জোটের মধ্যে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন খায়রুল হাসান। জোট থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে আসনটি বিএনপির দখলে চলে যেতে পারে বলেও মত রয়েছে। গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই আসনটি কালীগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পুবাইল ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন, ভোটকেন্দ্র ১২৪টি। জামায়াত প্রার্থী মো. খায়রুল হাসান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে। তিনি আধুনিক ও সম্প্রীতিময় কালীগঞ্জ গড়তে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন চান। এদিকে, এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণফোরামসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছেন।