রাজনীতি

আগুনে লেখা দুলুর রাজনৈতিক বিশ্বাস

২৬ বছর আগের এক ছবি, আজও জীবন্ত ইতিহাস

Icon
ভালুকা, ময়মনসিংহ
প্রকাশঃ জানুয়ারী ১৭, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু ঘটনা কেবল আন্দোলনের নয়, আত্মত্যাগ, বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকে। এরকমই এক দৃশ্য ঘটে ১৯৯৯ সালের ২৫ জুলাই। তখন বিএনপি বিরোধী অবস্থানে। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথ উত্তাল। ঢাকার দিক থেকে শুরু হয় ঐতিহাসিক রোডমার্চ।
বেগম খালেদা জিয়া ভালুকায় আসবেন—এই সংবাদে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর মধ্যে নেমে আসে উৎসবের আমেজ। মিছিল, স্লোগান আর মানুষের ঢলে হঠাৎ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন এক তরুণ নেতা—মাহবুবুল আলম সিদ্দিকী, দুলু।
সেদিন দুলুর পিঠে লেখা ছিল, “মা খালেদা জিয়া বিএনপি”—কিন্তু কোনো ব্যানার, প্ল্যাকার্ড বা কালি নয়। নিজে পিঠে আগুনে লোহা গরম করে অক্ষরগুলো পোড়ান। শরীরের যন্ত্রণাকে তুচ্ছ করে তিনি প্রকাশ করেন রাজনৈতিক বিশ্বাস ও নেত্রীর প্রতি সন্তানের ভালোবাসা।
খালেদা জিয়া সরকারি কলেজ মাঠে পৌঁছালে দুলুকে মঞ্চে হাজির করা হয়। আগুনে পোড়া অক্ষর, ফোসকা পড়া পিঠ—সবকিছু দেখে দেশনেত্রী শিহরিত হয়ে নীরব হন। উপস্থিত হাজারো মানুষ প্রত্যক্ষ করেন এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক মুহূর্ত।
মাহবুবুল আলম সিদ্দিকী ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালে ভালুকায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শামছুল হুদা দীর্ঘ ৪২ বছর শিক্ষকতা করেছেন। দুলুর শৈশব কেটেছে গফরগাঁওয়ে। কলেজ জীবনে ছাত্রদলে সক্রিয় হয়ে ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ও জিএস নির্বাচনে অংশ নেন।
রাজনৈতিক জীবনে তাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে আটটি মামলা, জেল, এবং নানা নির্যাতন। ২০০১–২০০৫ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও সুবিধাভোগী রাজনীতির বাইরে থেকে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন। ২০০৪ সালের পৌর নির্বাচনের পর থেকে ২০ বছর ধরে ভালুকা পৌরসভার ০১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১/১১-এর কঠিন সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন।
দুলু বলেন, “আমি ব্যক্তি নই। আমার প্রতীক ধানের শীষ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই আমার পরিচয়।”
রাজনীতির ইতিহাসে অনেক স্লোগান লেখা হয়েছে ব্যানারে, অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে মঞ্চে। কিন্তু নিজের শরীরকে রাজনীতির ভাষায় রূপ দেওয়া ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। রোডমার্চ ১৯৯৯-এর সেই আগুনে লেখা আজও বিএনপির রাজনীতিতে এক সাহসী, আবেগঘন ও অনন্য অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়।


 

রাজনীতি

আরও দেখুন
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও মেয়রসহ  তিন শতাধিক ব্যক্তিকে চট্টগ্রামে নিষেধাজ্ঞা

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শহরের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব দুষ্কৃতকারীকে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ৩৩০ জনের তালিকায় আরও নাম রয়েছে রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সাইফুল আলম লিমন, সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে গাজী শফিউল আজিম, শৈবাল দাশ, সাহেদ ইকবাল, জহরুল আলম জসিম, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, নাজমুল হক, হাসান মুরাদ, গিয়াস উদ্দিন, নূর মুস্তাফা, আবুল হাসনাত বেলাল, মোবারক হোসেনসহ নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর। তালিকায় সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী, তাঁর সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন (ছোট সাজ্জাদ), মোবারক হোসেন, মোহাম্মদ রায়হান, খোরশেদ, ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিন, ইসমাইল হোসেন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যা, নুরুল আলম উরফে হামকা আলম। পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ, শহিদুল ইসলামসহ সন্ত্রাসীরা চাঁদা ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য নগরে প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি করে আসছে। খুনের ঘটনাও করছে। এ দিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করে আসছেন।   ২০০০ সালের ১ অক্টোবর একে-৪৭ রাইফেলসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বড় সাজ্জাদ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলীফাইল ছবি এদিকে তালিকায় নগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর নামও রয়েছে। এর মধ্যে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা, বাকুলিয়া থানা বিএনপির নেতা মোর্শেদ খান, কোতোয়ালির যুবদল নেতা হাসান, পাহাড়তলীর মাসুমের নাম রয়েছে। তালিকায় সন্ত্রাসী ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নাম থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার অপরাধ অভিযান ফয়সাল আহম্মেদ সাংবাদিকদরে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ও গোপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে আসছে। তাই তাদের বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি> জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0
হাসনাত আব্দুল্লাহ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কি নির্বাচিত হচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?

সিদ্দিকুল আলম

নীলফামারী-৪ আসনে মনোনয়ন বৈধতা পেলেন জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল

নির্বাচনী ইস্যুতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের স্বান্তনা দিচ্ছেন তারেক রহমান।
“গুম ও হত্যার শিকারদের জন্য রাষ্ট্র দায়বদ্ধ“: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম ও হত্যার শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, “অনেক সন্তান আজও অপেক্ষায় আছে—তাদের হারানো বাবা একদিন ফিরে এসে দরজায় কড়া নাড়বেন। বহু মা এখনো আশায় আছেন, হারানো সন্তান আবার ‘মা’ বলে ডাকবে। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা রাষ্ট্রের জন্য দায়বদ্ধতার বিষয়।” সভায় তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দলের হাজারো নেতা-কর্মী নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ ও গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির কর্মীরা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ধারণ করেছেন এবং দলে ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। তারেক রহমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজনীয়তা ও নির্বাচনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, “গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুম ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকারদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। শহীদ ও গুমের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠিত হলে শহীদ পরিবার ও তাদের আত্মত্যাগ স্মরণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0

২৬ বছর আগের এক ছবি, আজও জীবন্ত ইতিহাস

তারেক রহমান

“রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে বিএনপির দমন সম্ভব নয়”: তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

১০ দলের ইসলামী আন্দোলন বাদ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত

মো. খায়রুল হাসান
জামায়াত প্রার্থী খায়রুল হাসানের আধুনিক কালীগঞ্জ গড়ার অঙ্গিকার

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ ও আশপাশ) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। প্রায় ১৭ বছর পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। দল গুছানো, ঘরে ঘরে পৌঁছানো, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তারা। ইসলামী সমমনা জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমীর মো. খায়রুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এবং খেলাফত মজলিশের রুহুল আমীন কাসেমী। স্থানীয় ভোটারদের মতে, জোটের মধ্যে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন খায়রুল হাসান। জোট থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে আসনটি বিএনপির দখলে চলে যেতে পারে বলেও মত রয়েছে। গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই আসনটি কালীগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পুবাইল ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন, ভোটকেন্দ্র ১২৪টি। জামায়াত প্রার্থী মো. খায়রুল হাসান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে। তিনি আধুনিক ও সম্প্রীতিময় কালীগঞ্জ গড়তে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন চান। এদিকে, এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণফোরামসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছেন।  

কালীগঞ্জ প্রতিনিধি জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

১১ দলের সংবাদ সম্মেলন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

শাহজাহান চৌধুরী

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে শোকজ

মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

শেরপুর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ বহিষ্কার

0 Comments