পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জাহিদুল ইসলাম ওরফে কিলার জাহিদকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানকালে তার কাছ থেকে দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম পাবনা সদর উপজেলার কাশিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বাচ্চু সরদারের ছেলে। সে অনুকূল চন্দ্র আশ্রমের সেবায়েত নিত্যরঞ্জন সাহা পান্ডে হত্যার ও মুন্তাজ চেয়ারম্যানের হাত কাটা মামলার অন্যতম আসামি।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাশেদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম পাবনা পৌর এলাকার দিলালপুর মহল্লার নাজমুন্নাহারের বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় অভিযান চালিয়ে জাহিদকে গ্রেফতার করে।
অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয়েছে:
• দুই নলা ওয়ান শুটার গান ও একটি এক নলা ওয়ান শুটার গান
• একটি ১২ বোর কার্তুজ
• ধারালো তলোয়ার ও চাইনিজ কুড়াল
• .২২ বোর রিভলভারের চেম্বার
• তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রের ট্রিগার, দুইটি লোহার স্প্রিং
• ইলেকট্রিক ড্রিল ও হ্যাকসো ব্লেড
ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার জাহিদকে অস্ত্র আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সালাহউদ্দিন রুমি (৫১) ও সাইফুল ইসলাম বাপ্পি (৫৬)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে চারটি বিদেশি শটগান, দুটি বিদেশি পিস্তল, ১৩ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হোরারবাগ চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ভাই-বোন সম্পর্কের। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এডহক ৪৮ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালাহউদ্দিন আল মামুনের নির্দেশে এবং বোয়ালখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. রাসেল প্রধানের নেতৃত্বে বেঙ্গুরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও সেনাসদস্যদের তৎপরতায় তারা ধরা পড়ে। পরে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। সতর্ক অনুসন্ধানে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সিলিং, আলমিরার গোপন বাক্স, গোয়ালঘরের খড়কুটোর নিচে এবং নির্মাণাধীন ভবনের বালির নিচে লুকানো চারটি স্থানে আরও অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। বোয়ালখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. রাসেল প্রধান জানান, গ্রেফতার সালাহউদ্দিন রুমির বিরুদ্ধে ছয়টি এবং সাইফুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে চারটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। তারা নির্বাচনের সময়সহ বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিল এবং নিজেদের তৈরি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র চট্টগ্রামের বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রকে বিক্রি করত।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক কলেজছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণের ঘটনায় বাসের চালক, হেলপার ও সহযোগীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে সাভার পরিবহণে ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ড্রাইভার মো. আলতাফ (২৫), হেলপার মো. সাগর (২৪) এবং ড্রাইভারের সহযোগী মো. রাব্বি (২১)। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাসে থাকা কলেজছাত্রীকে যাত্রীরা নামার পর আটকে রাখা হয়, তার টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে রাতভর যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটি হাইওয়ে পুলিশ আটক করে, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটি জানতে পারে। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. শরীফ জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ ঘটনা দেশের মহাসড়কে চলমান সন্ত্রাস ও নারী নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর অভিযান চালিয়ে ৪২০ পিস ইয়াবা, ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৩০ টাকা অবৈধ ইয়াবা বিক্রির অর্থ, ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ১৫টি লাঠি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযান বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে শহরের পলাশপোল এলাকায় পরিচালনা করা হয়। আটককৃতরা হলেন ইয়াসিন আরাফাত (২৫), রাকিব হোসেন (২০) ও মুরাদ হোসেন (২০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এক প্রেস নোটে জানানো হয়েছে, ইয়াসিন আরাফাত সাতক্ষীরার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা জব্দকৃত লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে জেলায় বিভিন্ন ধরনের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।