কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা, বাজার মনিটরিং, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং অপপ্রচার রোধসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য, কৃষি, সমাজসেবা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে হাত-পাবিহীন নবজাতককে কেন্দ্র করে এক মানবিক ও আবেগঘন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে জন্মদাতা বাবার অস্বীকৃতির বিপরীতে সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন মা। নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালে ২২ এপ্রিল জন্ম নেওয়া শিশুটি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বিষয়টি জানার পর বাবা শিশুটিকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং সামাজিক কারণে তাকে ফেলে আসার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। তবে মা লিজা সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই বাড়ি ফেরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সন্তানকে পরিত্যাগ করা তার পক্ষে সম্ভব নয় এবং তিনি তাকে লালন-পালন ও শিক্ষার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নবজাতকের চিকিৎসা ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফলে শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মায়ের দায়িত্ববোধ ও মানবিক অবস্থান প্রশংসিত হলেও বাবার আচরণ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ এক দশকের অবকাঠামোগত নির্মাণ, কারিগরি যাচাই-বাছাই ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের পর অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ; রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে কমিশনিং লাইসেন্স প্রাপ্তির পর শুরু হচ্ছে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পরীক্ষামূলক উৎপাদন পর্যায়ে উত্তরণের আইনগত ও প্রযুক্তিগতভাবে স্বীকৃত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা প্রটোকল পূরণ সাপেক্ষে গত ১৬ এপ্রিল লাইসেন্স অনুমোদিত হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৪৫ দিন সময় লাগবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রগতি হলে আগামী জুলাই-আগস্ট নাগাদ জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে পূর্ণ সক্ষমতায় ইউনিটটি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মাধ্যমে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জনই হবে এই প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবিক মাইলফলক, যা চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সূচনা নির্দেশ করে। তবে প্রকল্পটির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ অব্যাহত রাখা অপরিহার্য বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড জানিয়েছে, ইতোমধ্যে প্রশিক্ষিত দেশীয় বিশেষজ্ঞদের একটি দল অপারেশনাল লাইসেন্স অর্জন করেছে এবং ধাপে ধাপে কেন্দ্রটির পূর্ণ পরিচালনা দায়িত্ব তাদের হাতে ন্যস্ত করা হবে।
নীলফামারীতে অনলাইন ভিত্তিক ফুয়েল কার্ড চালুর পর জ্বালানি পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে কমে গেছে ক্রেতার উপস্থিতি। জেলা প্রশাসন গত ২২ এপ্রিল ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি ও ত্রুটির কারণে অনেক আবেদন অনুমোদন পায়নি, ফলে জ্বালানি গ্রহণকারীর সংখ্যা কম রয়েছে। নীলফামারী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ জানান, ১৫ এপ্রিল থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী মোটরসাইকেলে মাসে ২০ লিটার এবং কার/মাইক্রোবাসে ৫০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরেজমিনে একটি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, আগের মতো ভিড় নেই এবং কোনো অস্থিরতা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে গত ২৩ এপ্রিল সৈয়দপুর উপজেলা-এ একটি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি না পেয়ে কিছু যানবাহন মালিক সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরমান হোসেন জানান, জেলার ৩৮টি ফিলিং স্টেশনেই পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং নিয়মিত সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ মজুদ রোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না বলেও তিনি জানান।