রাজনীতি

বিএনপির বহিষ্কারের রাজনীতি: নিছক কৌশল নাকি আমূল পরিবর্তন?

Icon
ভালুকা, ময়মনসিংহ
প্রকাশঃ জানুয়ারী ২৫, ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যে নির্বাচনকালীন বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে, সেটিকে নিছক কোনো সাময়িক বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ আর নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বহিষ্কার স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে-দল এবার এমন এক আপোশহীন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে পিছু হটার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। বিএনপির ইতিহাসে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোরতা নতুন নয়, কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা একেবারেই ভিন্নতর। এটি কেবল একটি নির্বাচনি কৌশল নয়, বরং দলীয় অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দর্শন রক্ষার একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কিংবা দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে কার্যক্রম চালিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদি বার্তা দিতে চেয়েছে। এই বার্তাটি মূলত দলের ভেতরে ও বাইরে এক প্রকার ‘রাজনৈতিক সার্জারি’র সংকেত। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন আর ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনীতির ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। দলের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে উঠে কেউ নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে চাইলে তার পরিণতি যে ‘বহিষ্কার’-এবার সেটি কথার লড়াই ছাড়িয়ে বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচন-উত্তর রাজনীতিতে পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব বহিষ্কারাদেশ হয়ত প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ধারণা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিএনপি বর্তমানে যে ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের পুনর্বাসন করা মানে হবে দলের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করা। তৃণমূলের যেসব নেতাকর্মী হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম উপেক্ষা করে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত রয়েছেন, বিদ্রোহীদের পুনরায় ‘আদর করে’ ফিরিয়ে আনা হবে তাদের ত্যাগের প্রতি চরম অবজ্ঞা। দলীয় নেতৃত্ব সম্ভবত অনুধাবন করছে যে, এই মুহূর্তে নমনীয়তা দেখানো হবে আত্মঘাতী।
এখানে একটি কঠিন সত্য নিহিত-রাজনীতিতে ব্যক্তি কখনোই অপরিহার্য নয়। একটি দল টিকে থাকে তার আদর্শ, সুদৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন একটি সুশৃঙ্খল ‘চেইন অফ কমান্ড’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, ‘দল মানেই শৃঙ্খলা, দল মানেই সিদ্ধান্তের প্রতি বিনম্র আনুগত্য’। যারা এই কাঠামোর বাইরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তাদের জন্য ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতিতে জায়গা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে-এটাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক বিবর্তন।
বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনে করেছিলেন তাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা হয়ত দলের প্রতীক বা সিদ্ধান্তের চেয়ে বড়। কিন্তু বিএনপি এবার সেই ‘ব্যক্তি-ইমেজ’ ভেঙে ‘দলীয় সত্তা’কে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার নীতি নিয়েছে। এই শুদ্ধি অভিযান কেবল নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়ার জন্য নয়, বরং আগামী এক দশকের জন্য একটি সংহত ও আধুনিক রাজনৈতিক শক্তির রূপরেখা তৈরির প্রক্রিয়া।
সবশেষে বলা যায়, নির্বাচনকালীন এই বহিষ্কারগুলো বিএনপির জন্য কোনো সাময়িক অধ্যায় নয়, এটি একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা। এই বাস্তবতায় তথাকথিত ‘বিদ্রোহী রাজনীতির কোনো স্থান নেই, আর ফেরার পথও আগের মতো মসৃণ নয়। শৃঙ্খলার এই নতুন দেয়াল টপকানো বিদ্রোহীদের জন্য কঠিন হবে। বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে-এবার শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ‘কম্প্রোমাইজ’ নয়। এই অনড় অবস্থানই সম্ভবত আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির নতুন পরিচয় হয়ে উঠবে।
লেখক: এ.আর. ইমরান, কলামিষ্ট 

 

রাজনীতি

আরও দেখুন
নিজের চেয়ে বেশি শিক্ষিত নারীকে বিয়ের পরামর্শ হাসনাতের

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি যুবকদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন নিজের থেকে বেশি শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সংসদ সদস্য হাসনাত জানান, বিয়ের সময় মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “বিয়ে করলে স্ত্রী যেন স্বাবলম্বী হয়, নিজের ও সন্তানের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। তাই নিজের থেকে কম শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করার পরামর্শ কখনো গ্রহণ করব না।” তিনি আরও বলেন, দেবিদ্বারের নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের পরিবার ও সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্য। এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় যুব সমাজে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0

মির্জা আব্বাস হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি

প্রথম অধিবেশনের দিনেই রাষ্ট্রপতির অভিশংসনসহ ৩ দাবিতে এনসিপির অবস্থান

রংপুরে এনসিপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল, সংস্কার না হলে নতুন বিপ্লবের প্রস্তুতির আহ্বান

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি তুললেন নাহিদ ইসলাম

রাজশাহীতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ ও তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রাঙ্গণে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন ১২ মার্চ নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে তারা সংসদে যোগ দেবেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতির অপসারণ এবং তাকে আইনের আওতায় আনার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি শরীফ উসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে যারা ভারতে গ্রেফতা হয়েছে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডটি শুধু প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও তথাকথিত ‘ডিপস্টেট’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করা উচিত। সরকারের সাম্প্রতিক সামাজিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি রোধ করা না গেলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পুরোপুরি পৌঁছাবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0

মন্ত্রী মর্যাদা বিতর্কে জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা অপসারণ, নতুন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আরমান

বন্যার তহবিলের হিসাব নিয়ে তোপের মুখে আসিফ মাহমুদ

সংস্কার কার্যকর না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে না জামায়াতে ইসলামী: শিশির মনির

প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে চেয়ার দখল, কারাগারে জামায়াত নেতা

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও তাঁর চেয়ার দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন জামায়াতের এক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম আসামি একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মামলার বাদী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার আমলি আদালত-১ এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অভিযুক্তরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং তাঁর চেয়ার দখল করেন। ঘটনাটির দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মুজিদ জানান, সিআইডির তদন্তেও ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, একই মামলায় এর আগে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ ও আজমল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।  

সাতক্ষীরা মার্চ ৫, ২০২৬ 0

বগুড়া-৬ এ তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল বাদশা

ছবি: প্রতিনিধি

মিথ্যা চাঁদাবাজীর অভিযোগের প্রতিবাদে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির

0 Comments