আসন্ন নির্বাচনের মধ্যে খুলনার ৬টি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও মিছিলের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন তারা।
খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল দৌলতপুর বাজারে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকায় বন্ধ পাটকল ও শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করে বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে।

এছাড়া খুলনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারি হেলাল রূপসা উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ চালান। তিনি ভোটারদের সমর্থন চেয়ে বলেন, এলাকার মানুষ ও বেকারদের কল্যাণে কাজ করবেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল দৌলতপুর থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়ে দেশের পরিবর্তনে অংশ নিন।
জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ও জেলা শাখার নেতা এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালও খুলনা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী জনসভা ও গণসংযোগ সম্পন্ন করেন। তিনি ভোটারদের আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে দেশের কল্যাণ ও বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
সবাইই নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়িয়ে ভোটার সচেতনতা এবং সমর্থন বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইংরেজিতে সংক্ষিপ্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে মাত্র তিনটি শব্দ লেখা ছিল—“Get out Chuppu”। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ‘Chuppu’ শব্দটি দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ওই নামে পরিচিত। তবে এই মন্তব্যের বিষয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সংসদের অধিবেশন চলাকালে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও প্রতিবাদের জেরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।
জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশনের দিনে এনসিপি নেতা ও কর্মীরা তিনটি দাবি নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালেই মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রবেশপথে প্ল্যাকার্ড হাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তারা সংসদে তিনটি মূল দাবি জানান: সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন, এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা। এদিকে, সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে সকাল থেকেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা পদার্পণ শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানও উপস্থিত থাকেন। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা জনসমক্ষে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং নতুন সংসদ জনগণের আস্থা রক্ষা করতে কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন। বিরোধী দলের সদস্যরা শপথ নেওয়া ও সংবিধান রক্ষার জন্য সরকারী এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেন যে রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন, ফলে তাঁর সংসদে অংশগ্রহণ আইনত বৈধ নয়। বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটি দেশের প্রথম সংসদ অধিবেশন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-কে বন্যার তহবিলের হিসাব জানতে চাইতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনের বাইরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আয়োজন নিয়ে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনের শেষপর্যায়ে ঘটনাটি ঘটে। ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি সম্মেলনস্থল থেকে আসিফ মাহমুদকে প্রশ্ন করতে থাকেন, “বন্যার তহবিলের হিসাব কোথায় পাওয়া যাবে? ফান্ডে দেওয়া অর্থের খোঁজ নেই।” প্রশ্নকারী নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং বন্যার তহবিল, এনসিপি নেতাদের দায়িত্ব এবং আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত সম্পদের উৎস নিয়ে অভিযোগ তোলেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ঘটনার পটভূমিতে আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব আয়োজন করা হবে। আয়োজনটি ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিলের মাধ্যমে হবে। কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি এবং উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উৎসবের জন্য সাধারণ জনগণের আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করা হবে এবং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তরুণরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছে নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে বন্যার তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে।