ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বরিশাল-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অব.) মোঃ কামরুল ইসলাম খান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) এবং সকল ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, বাকেরগঞ্জ ইউএনও রুমানা আফরোজ একই সঙ্গে পৌর প্রশাসক থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। এ অবস্থায় নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রার্থী আরও দাবি করেন, স্থানীয় এএসপি এবং ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদেরও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে বদলি করে অন্য জেলার কর্মকর্তা দায়িত্বে আনার অনুরোধ জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের হয়রানি, গ্রেপ্তার ও চাপ প্রতিরোধে এসব পদক্ষেপ জরুরি।
বাকেরগঞ্জ ইউএনও রুমানা আফরোজ সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কয়েকশ’ পরিচ্ছন্নকর্মী তাদের বেতন ও বোনাস দাবি নিয়ে টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন পালন করার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। পরিচ্ছন্নকর্মীরা জানিয়েছেন, গত বছর তারা ৩০ দিনের বেতন ও ঈদ বোনাস পেয়েছিলেন, কিন্তু এ বছর তা না দেওয়া হলে তারা মানববন্ধন শুরু করেছিলেন। কর্মবিরতির কারণে নগরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন এবং সিটি কর্পোরেশনের রাস্তাঘাটে ময়লার স্তূপ সৃষ্টি হয়েছিল। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানিয়েছেন, ডেইলি মজুরি ভিত্তিক কিছু কর্মচারী স্থায়ী কর্মচারীদের মত বোনাস দাবি করেছেন। প্রশাসনের মানবিক দিক বিবেচনায় তাদেরকে ইফতার বাবদ আংশিক ২০০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী পুরো বোনাস দেওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তী বৈঠকে উভয় পক্ষের আলোচনায় দাবিদাওয়া আংশিক মেনে নিয়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে। নগরবাসীও শান্তিপূর্ণ সমাধানে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ঈদের আগে বেতন ও বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন-এর প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি বুধবারও (১১ মার্চ) অব্যাহত থাকায় নগরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের বেতন দেওয়া হলেও ঈদ বোনাস দেওয়া হয়নি। তারা বোনাসের পাশাপাশি ৩০ দিনের অগ্রিম বেতন দাবি করেছেন। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মীরা। পরিচ্ছন্নতাকর্মী আব্দুল্লাহ বলেন, “৩০ দিন কাজ করেও আমরা ২২ দিনের বেতন পাই। গত বছর উৎসব ও ইফতার ভাতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার বোনাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ সিটি করপোরেশনের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ বোনাস পাচ্ছেন।” আরেক কর্মী সুমন খান বলেন, “আমরাই শহর পরিষ্কার রাখি। কিন্তু উৎসবের সময় পরিবার নিয়ে আনন্দ করার মতো সামর্থ্য থাকে না।” পরিচ্ছন্নতাকর্মী রোকেয়া পারভীন জানান, বর্তমান বাজারদরে এই বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। বোনাস না পেলে সন্তানদের নতুন পোশাক বা ঈদের বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। শ্রমিক নেতা সোহাগ বলেন, গত ৮ মার্চ থেকে তারা আন্দোলন করছেন। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, আগে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মীদের বেতন ছিল ১০ হাজার টাকা এবং তারা উৎসব ভাতা পেতেন। তবে পরবর্তীতে মজুরি বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়, যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে মজুরি বাড়ানোর কারণে তারা আর উৎসব ভাতা পাবেন না। মোঃ রেজাউল বারী বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট পরিপত্র রয়েছে। তাই আন্দোলন হলেও বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে টানা দুই দিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নগরীর মল্লিক রোড, আমানতগঞ্জ, বটতলাসহ অর্ধশতাধিক স্থানে ময়লার স্তূপ জমেছে। দুর্গন্ধে নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌপথে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস পুনঃপ্রবর্তনসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান রাজন জানান, ঈদের আগে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস চালু করা, ঈদের পর বরিশাল সেক্টরে অন্তত দুটি বিশেষ ফ্লাইটসহ নিয়মিত বিমান চলাচল চালু রাখা, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন সড়ক নির্মাণ দ্রুত শুরু করা এবং অসমাপ্ত নেহালগঞ্জ ও গোমা সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে। এ সময় বরিশাল বিমান বাংলাদেশের অফিসের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সড়ক জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের মন্ত্রীর কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপি গ্রহণকালে বরিশাল জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বলেন, দাবিনামাগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মিজানুর রহমান, প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, সহ-সভাপতি দেওয়ান আঃ রশিদ নিলু, সিনিয়র সাংবাদিক নাছিম উল আলম এবং সংগঠক দীপু হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।