শিরোনাম
ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৯৮০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় দেশটিতে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ভবন ধসে পড়ে।

সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২৫০টি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে আটটি হাসপাতাল, রেডক্রস ভবন এবং ফরাসি দূতাবাসও রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪৯ হাজার ৬০০ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে খালি হাতেই কাজ করছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় রাতেও মশাল ও অস্থায়ী আলোর সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

উপকূলীয় শহর লা গুয়ারা, মোরনসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মেক্সিকো, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, এল সালভাদর ও কাতারসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সহায়তা ও ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে এবং ভেনেজুয়েলার এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ, ভূমিকম্পের আগেই দেশটির প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

ডিমলায় বজ্রপাতে নিহত ১, গৃহবধূ আহত
ডিমলায় বজ্রপাতে নিহত ১, গৃহবধূ আহত

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বজ্রপাতে আলম ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় সেলিনা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলম ইসলাম ওই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। আহত সেলিনা বেগমও একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আকাশে বজ্রপাত হয়। এ সময় নিজ বাড়ির পাশে অবস্থান করছিলেন আলম ইসলাম। বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

একই সময় পাশে থাকা গৃহবধূ সেলিনা বেগমও বজ্রপাতের আঘাতে আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান জানান, আহত সেলিনা বেগমকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। নিহতের মরদেহ হাসপাতাল হেফাজতে রাখা হয়েছে।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সুন্দরবনে জেলে নিহতের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দেন বন প্রতিমন্ত্রী
সুন্দরবনে জেলে নিহতের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দেন বন প্রতিমন্ত্রী

সুন্দরবনে জেলে আমিনুর রহমান গাজী নিহতের ঘটনায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনবিভাগের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও বনকর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে মঙ্গলবার (১৯ মে) নিহত জেলের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান–এর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে নিহত জেলে আমিনুর রহমান গাজী–র বাড়িতে যান। এসময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

নিহত আমিনুর রহমান গাজী পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পরে দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–র একটি প্রতিনিধি দলও নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গত ১৩ মে বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন আমিনুরসহ চার জেলে। সোমবার সকালে খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের পাটকোস্টা হেলাবাসী অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া আহরণের সময় বনবিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং টিম গুলি চালালে আমিনুর নিহত হন।

ঘটনার পর সোমবার বিকেলে শত শত বনজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও স্টেশন অফিসে হামলা চালায়। এসময় অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং কয়েকজন বনকর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। হামলায় বনকর্মী তপন, মেজবাহ, ফারুক, এখলাছুর ও ফায়জুর আহত হন। পরে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।  

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

সুন্দরবনে বন বিভাগের সদস্যদের গুলিতে এক জেলে নিহত
সুন্দরবনে বন বিভাগের সদস্যদের গুলিতে এক জেলে নিহত

পশ্চিম সুন্দরবনে বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যদের গুলিতে আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের মৃত আকছেদ গাজীর ছেলে।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টার দিকে খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের বাটলো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে সহকর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে লোকালয়ে নিয়ে আসেন।

স্থানীয় জেলে ও সহকর্মীদের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ মে চারজন জেলে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণে যান। রোববার রাতে ঘুমের সময় তাদের নৌকা স্রোতের কারণে অভয়ারণ্যের দিকে চলে যায়। সোমবার সকালে ফেরার পথে বন বিভাগের টহল টিম তাদের আটক করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় নৌকা ও জেলেদের আটক রেখে বনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে নলিয়ান স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবারক তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে আমিনুর গাজী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঘটনাস্থলেই ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় জেলে মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বন বিভাগের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে জানান, বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।