সুন্দরবনে জেলে আমিনুর রহমান গাজী নিহতের ঘটনায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনবিভাগের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও বনকর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে মঙ্গলবার (১৯ মে) নিহত জেলের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান–এর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে নিহত জেলে আমিনুর রহমান গাজী–র বাড়িতে যান। এসময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।
নিহত আমিনুর রহমান গাজী পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পরে দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–র একটি প্রতিনিধি দলও নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গত ১৩ মে বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন আমিনুরসহ চার জেলে। সোমবার সকালে খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের পাটকোস্টা হেলাবাসী অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া আহরণের সময় বনবিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং টিম গুলি চালালে আমিনুর নিহত হন।
ঘটনার পর সোমবার বিকেলে শত শত বনজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও স্টেশন অফিসে হামলা চালায়। এসময় অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং কয়েকজন বনকর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। হামলায় বনকর্মী তপন, মেজবাহ, ফারুক, এখলাছুর ও ফায়জুর আহত হন। পরে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন সম্পন্ন করা হবে।