চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা নতুন করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কিছু ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর ও হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অপরাধ দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা বিচারবহির্ভূত শাস্তি প্রদান সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এক বক্তব্যে দাবি করেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ঠেকাতে তাঁর কাছে "কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘোরার" চেষ্টা করা হয়েছিল। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, যদি সত্যিই ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা আইনি পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগও করা হচ্ছে যে, কিছু মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে উপস্থাপিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে প্রতিটি আলোচিত ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল, পদ বা প্রভাব নির্বিশেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।