রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ-এর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নগর ভবনের সভাকক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ দপ্তরের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় নগরীর চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প, যানজট নিরসন, নাগরিক নিরাপত্তা, পরিবেশ উন্নয়ন ও শহরের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশাসক ড. বজলুর রশীদ বলেন, সিটি কর্পোরেশন নাগরিক সেবা প্রদানের পাশাপাশি অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি নগরীর রাস্তা প্রশস্ত হওয়ায় দ্রুত যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, পুলিশ কমিশনার, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা, আরডিএ চেয়ারম্যান, রাজশাহী ওয়াসা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান জানান, নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রম চলমান আছে। তিনি জনবহুল মোড়ে যানজট কমাতে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান।
সভায় সড়ক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা নগরীর আধুনিকায়ন, ঢাকা বাস টার্মিনালের নওদাপাড়ায় স্থানান্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রশস্তকরণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে স্কাউট দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপনে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। শতাধিক স্কাউট এবং কাব উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী উপজেলা পরিষদ চত্বরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর উপজেলা স্কাউটের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। তিনি বলেন, “নিজে ভালো হতে হবে, তারপর অন্যকেও ভালো রাখতে হবে। এটি একজন স্কাউটের আদর্শগত করণীয়।” আলোচনা সভায় সৈয়দপুর উপজেলা স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম, সহ-কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কাশিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লানচু চৌধুরী, শিক্ষক রওশন আরা, আজিজুল বারি বসুনিয়া, স্কাউট লিডার মো. শাকিল, কাব লিডার হোমায়রা বেগম এবং কোষাধ্যক্ষ ওমর ফারুক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং স্কাউট আদর্শের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কের পাশে স্থাপিত একটি ডাস্টবিন দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত অপসারণের অভাবে সেখানে জমে থাকা আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পথচারী, রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশপাশে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর থাকায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের প্রতিদিন এই দূষিত পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মশা-মাছির বিস্তার ঘটায় ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডসহ সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতা কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় স্থানীয় নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অবিলম্বে ডাস্টবিনটি অপসারণ বা স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর সামাজিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, জনস্বার্থ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা দালাল চক্রের বিরুদ্ধে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তৎপরতা দেখিয়ে ১৪ জনকে আটক করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) র্যাব-২-এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে পাঁচ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আটককৃতদের মধ্যে তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড় দেওয়া হয়েছে, বাকি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিবিড় তদন্ত চলমান। অভিযানের লক্ষ্য ছিল সাধারণ গ্রাহকদের প্রতারণা ও মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়া। অভিযান থেকে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্র পাসপোর্ট দ্রুত পাওয়ার প্রলোভনে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত, অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার পরও পাসপোর্ট প্রদান বা জাল কাগজপত্র সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাহকদের হয়রানি করত। পাসপোর্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা র্যাবের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং দালাল চক্রের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। তারা গ্রাহকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আবেদন প্রক্রিয়ায় দালালের সাহায্য না নিয়ে নিজে সরাসরি ফরম পূরণ ও অর্থ জমা দেওয়া উচিত। র্যাব জানিয়েছে, সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অফিসেও পর্যায়ক্রমে এই ধরনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।