মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএ জিন্নাহ কবীরের তুলনায় তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, জিন্নাহ কবীরের মোট সম্পদ ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা, আর তাঁর স্ত্রীর স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পদ ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
হলফনামায় জিন্নাহ কবীর নিজেকে ‘স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ উল্লেখ করে পেশা হিসেবে ব্যবসায়ী দেখিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে, যার ছয়টি বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের। তিনি বছরে ব্যবসা থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন বলে উল্লেখ করেছেন।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তাঁর নামে একটি গাড়ি, স্বর্ণ ও নগদসহ মোট সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অন্যদিকে স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে জিন্নাহ কবীরের নামে কৃষিজমি ও একটি ফ্ল্যাট থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নামে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি ভবন রয়েছে।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, স্বামী-স্ত্রীর নামে বেসিক ব্যাংকে আড়াই লক্ষাধিক টাকার ঋণ রয়েছে এবং সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তিনি ৩০ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে স্কাউট দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপনে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। শতাধিক স্কাউট এবং কাব উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী উপজেলা পরিষদ চত্বরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর উপজেলা স্কাউটের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। তিনি বলেন, “নিজে ভালো হতে হবে, তারপর অন্যকেও ভালো রাখতে হবে। এটি একজন স্কাউটের আদর্শগত করণীয়।” আলোচনা সভায় সৈয়দপুর উপজেলা স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম, সহ-কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কাশিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লানচু চৌধুরী, শিক্ষক রওশন আরা, আজিজুল বারি বসুনিয়া, স্কাউট লিডার মো. শাকিল, কাব লিডার হোমায়রা বেগম এবং কোষাধ্যক্ষ ওমর ফারুক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং স্কাউট আদর্শের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কের পাশে স্থাপিত একটি ডাস্টবিন দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত অপসারণের অভাবে সেখানে জমে থাকা আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পথচারী, রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশপাশে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর থাকায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের প্রতিদিন এই দূষিত পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মশা-মাছির বিস্তার ঘটায় ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডসহ সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতা কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় স্থানীয় নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অবিলম্বে ডাস্টবিনটি অপসারণ বা স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর সামাজিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, জনস্বার্থ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা দালাল চক্রের বিরুদ্ধে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তৎপরতা দেখিয়ে ১৪ জনকে আটক করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) র্যাব-২-এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে পাঁচ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আটককৃতদের মধ্যে তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড় দেওয়া হয়েছে, বাকি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিবিড় তদন্ত চলমান। অভিযানের লক্ষ্য ছিল সাধারণ গ্রাহকদের প্রতারণা ও মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়া। অভিযান থেকে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্র পাসপোর্ট দ্রুত পাওয়ার প্রলোভনে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত, অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার পরও পাসপোর্ট প্রদান বা জাল কাগজপত্র সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাহকদের হয়রানি করত। পাসপোর্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা র্যাবের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং দালাল চক্রের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। তারা গ্রাহকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আবেদন প্রক্রিয়ায় দালালের সাহায্য না নিয়ে নিজে সরাসরি ফরম পূরণ ও অর্থ জমা দেওয়া উচিত। র্যাব জানিয়েছে, সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অফিসেও পর্যায়ক্রমে এই ধরনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।