চট্টগ্রামে র্যাব ৭ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে অস্ত্র ও গুলিসহ একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতের নাম ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম (২৮)। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ইমতিয়াজ নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং একসময় বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী ছিলেন। তিনি চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
গ্রেফতারের সময় ইমতিয়াজের সঙ্গে থাকা সহযোগী আবুল কালাম আজাদকেও আটক করা হয়। র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লিংক রোড এলাকায় অস্ত্র কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করার সময় অভিযান চালানো হয়। ধৃতের কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় এবং পরে তার বাড়ি তল্লাশি করে আরও একটি পিস্তল ও ৫৬ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।

র্যাব জানায়, ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র সংরক্ষণ ও নাশকতা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রামের স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার আসামি। আগে তিনি চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ছিলেন এবং বিদেশে পলাতক ছিলেন।
ধৃতের পরিবারের দাবি, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং সাজ্জাদ আলীর পক্ষ থেকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে র্যাব এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযান চলাকালীন সময়ে অস্ত্র ও অপরাধমূলক কার্যকলাপে ধৃতকে আটক করা হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তারা আরও জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকায় ইমতিয়াজ চাঁদাবাজি করতেন এবং একসময় কিশোর গ্যাং ‘রিচ কিডস’ পরিচালনা করতেন। তার সহযোগী আবুল কালাম আসামির ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে চাঁদাবাজি পরিচালনা করত।
মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান এবং র্যাব এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে মা, ছেলে ও নাতিসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দেবীগঞ্জ থানার পুলিশ ওসি সেলিম মালিকের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ কুমার বসাক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ১১ জনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় এবং দুই জনের বিরুদ্ধে দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মজিবর রহমানের স্ত্রী তহমিনা বেগম (৭৫), তার ছেলে মো. হানিফ (৪৪) ও নাতি মো. মিস্টার আলী (২৩) রয়েছেন। এছাড়া দেবীগঞ্জ ও নীলফামারীর অন্যান্য এলাকা থেকে আরও ১০ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তহমিনা বেগমের কাছ থেকে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ বাড়িতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অভিযানে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়িটি ঘিরে ধরেন এবং আসামিদের আটক করেন। একইদিনে দেবীগঞ্জ পৌরসদরের সাহাপাড়া এলাকায় রাজু ইসলামকেও মাদক সেবনরত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। ওসি সেলিম মালিক বলেন, “উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।” গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ফকিরহাট থেকে অপহৃত ১৮ মাস বয়সী শিশুকন্যা রাফছাকে পুলিশ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নয়ন শেখ (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটিকে বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত রাফছা ফকিরহাট উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া গ্রামের আ: রশিদ খানের মেয়ে। গ্রেফতার নয়ন শেখ খুলনার টুটপাড়া এলাকার আসলাম শেখের ছেলে। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: আলমগীর হোসেন জানান, নয়নের স্ত্রী শিশুটিকে কোলে নেওয়ার কথা বলে পরিবারের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় শিশুটি ফেরত না আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে নয়ন মোবাইল ফোনে শিশুটিকে ফেরত দিতে টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ক্ষতি করার হুমকি দেয়। র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো: নাজমুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং নয়নকে গ্রেফতার করে ফকিরহাট মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার “মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিজারের পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রশাসন ক্লিনিক পরিদর্শন করে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী দম্পতি রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা জানান, শুক্রবার রাতেই প্রসূতি হাবিবা সুলতানা ক্লিনিকে ভর্তি হন। রবিবার রিলিজ নেওয়ার সময় ২২ হাজার টাকার বিল না দিতে পারায় চিকিৎসক তাদের ওপর বিকল্প অমানবিক চাপ প্রয়োগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নবজাতক বিক্রির পরিকল্পনা করতে থাকে, যেখানে বাচ্চার দাম থেকে কিছু টাকা ডাক্তার রাখবে এবং বাকি পরিবারের হাতে দেয়া হবে। স্থানীয়রা ক্লিনিকের নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নজরে আসলে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, নবজাতক বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি আরও কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ক্লিনিকের দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবল ও দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়েছে। ক্লিনিককে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।