সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও জেলা শহরে একের পর এক সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত ২টার দিকে বেলকুচিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়াহিয়ার বাড়িতে অজ্ঞাত দুষ্কৃতীরা আগুন ধরিয়ে বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়িয়ে দিয়েছে।
একই রাতেই সিরাজগঞ্জ শহরের দিয়ারধানগড়া মহল্লায় স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্না’র বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ গুরুতর আহত হননি, তবে আশেপাশের কয়েকটি বাড়িতেও ক্ষতি হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াহিয়া জানান, রাজনৈতিক কারণে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচেছেন। সাংবাদিক ইন্না বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুই মহল্লার মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল, যার জের ধরে তার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা ও বেলকুচি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাশেদ বিকুল ওরফে পিকুল (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার কদমতলা বালুর মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে একাধিক গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাশেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রূপসা থানার ওসি (তদন্ত) মো. সবুর জানান, কয়েকজন দুর্বৃত্ত পিকুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বুকে গুলি লাগার কারণে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ থাকলেও হত্যার সঠিক কারণ এবং মূল হোতারা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার পর বাগমারা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নাটোরের সিংড়ায় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা রায়হান কবির (৪৫) ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টায় আহতের ছেলে মেহেদী হাসান সিংড়া থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচনী আলোচনা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিলতাজপুর এলাকায় রায়হান কবিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল ব্যবহার করে তার দুই পায়ে গুরুতর আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার পায়ের রগ কেটে গেছে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ধানের শীষের এক প্রার্থীর সমর্থকদের নেতৃত্বে এই হামলা সংঘটিত হয়। তবে অভিযুক্ত পক্ষ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধের ফল বলে দাবি করেছে। এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
রাজধানীতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যা মামলায় অস্ত্রধারী হামলাকারীসহ তিনজনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অভিযুক্ত শুটার জিনাত এবং হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন বিল্লাল রয়েছেন। অপর আটক ব্যক্তি তাদের সহযোগী বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। প্রসঙ্গত, বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজতুরী বাজার এলাকায় স্টার হোটেল সংলগ্ন একটি গলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বির (৪৫)। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।