বাংলাদেশ

প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম মুক্ত সরিষাবাড়ী

Icon
তানিয়া আক্তার
প্রকাশঃ জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

'ইচ্ছে শ্রমে গড়ি দেশ, সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ' - এই প্রতিপাদ্যে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম মুক্ত করলো 'ইচ্ছেশ্রম' সংগঠন। এ সংগঠনটি ২০২২ সাল থেকে এই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষতিকর উদ্ভিদ নির্মূল অভিযান পরিচালিত করে আসছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ( শুক্রবার), উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাট এলাকায় অভিযান শেষে উপজেলাকে ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
জানা যায়, পার্থেনিয়াম একটি ক্ষতিকর আগ্রাসী উদ্ভিদ। এটি নরম কাণ্ড বিশিষ্ট গুল্ম জাতীয় আগাছা, যা সাধারণত গাজর ঘাস নামে পরিচিত। দেখতে অনেকটা গাজর পাতা বা চন্দ্রমল্লিকা ফুল গাছের পাতার মতো। এতে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। এর বীজ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও হালকা হওয়ায় বাতাসের মাধ্যমে অনেক দূরে গিয়েও ছড়িয়ে পড়ে ও দ্রুত বংশবিস্তার করে। 
এই উদ্ভিদের আদি নিবাস উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পূর্ব মেক্সিকো। এর বৈজ্ঞানিক নাম Parthenium hysterophours. পার্থেনিয়াম সাধারণত ২ থেকে ৫ ফুট উঁচু হয়। একটি গাছ মাত্র চারমাসে তিনবার ফুল দিয়ে প্রায় ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত বীজ উৎপন্ন করতে পারে, যা এর ভয়াবহ বিস্তারের অন্যতম কারণ। পার্থেনিয়ামের ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, জ্বর, অ্যালার্জি, চর্মরোগ ও ব্রংকাইটিসসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। গবাদিপশু এই ঘাস খেলে গুরুতর অসুস্থ, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কৃষি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব মারাত্মক; ফসলের জমিতে পার্থেনিয়াম জন্মালে ফসলের উৎপাদন ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। 
প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর এই প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরিষাবাড়ি উপজেলা জুড়ে এটি নির্মূলের উদ্যোগ গ্রহণ করেন উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ উদ্যান এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৃতি প্রেমী সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাসমত আলী। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে তিনি গড়ে তোলেন 'ইচ্ছেশ্রম' সংগঠন নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সংগঠনটি এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে নিয়ে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০টিরও অধিক স্থানে নির্মূল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের আওতায় রাস্তার পাশ, খোলা জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা, ফসলি জমির আশপাশ ও জনবসতিপূর্ণ স্থান থেকে পার্থেনিয়াম অপসারণ করে সমূলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়, যা পরবর্তীতে সেখানে জৈবসারে পরিণত হয়।
এই ইচ্ছেশ্রম সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাসমত আলী বলেন, সে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিনে দীর্ঘ দিন যাবৎ এ ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম উদ্ভিদ নির্মূল করে আসছেন। আজকের এই অভিযানের মাধ্যমে সরিষাবাড়ি উপজেলাকে পার্থেনিয়াম থেকে মুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও পার্থেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন। কেননা, বাতাসের মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে যে কোনো স্থানেই দেখা দিতে পারে। তবে তার এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। এবং কীভাবে সারা বাংলাদেশ থেকে এটাকে নির্মূল করা যায় সে বিষয়েও একটা যথাযথ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণের চেষ্টা করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ

আরও দেখুন
হ্যাঁ ভোট প্রদানের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন আসবে

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, জুলাই এর চেতনাকে ধারণ করে আমাদের এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের হাতে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের চাবি তুলে দেয়া হয়েছে। এই হ্যাঁ ভোট প্রদানের মাধ্যমে এ দেশে পরিবর্তন আসবে।  শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল সম্মেলন কক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য ও খাগড়াছড়ি জেলার ছাত্র প্রতিনিধি রাকিব মনি ইফতি।

খাগড়াছড়ি জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0

প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম মুক্ত সরিষাবাড়ী

দেশে বাড়ছে সহিংসতা

ছবি: প্রতিনিধি

৩লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসক মাত্র একজন

ছবি: সংগৃহীত
শিয়ালের মাংস খাসি বলে বিক্রির চেষ্টা

শিয়ালের মাংস বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লো আশরাফুল ইসলাম নামে এক কসাই। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর বাজারে। আশরাফুল হরিপুর আফজালপাড়া গ্রামের আশু কসাইয়ের ছেলে।ঘটনাটি জানাজানি হলে চতুর কসাই বাজার থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে শিয়ালের মাংস উদ্ধারের পর মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়ির পাশে শিয়াল ধরার জন্য ফাঁদ পেতে রাখে আশরাফুল। সেই ফাঁদে শিয়াল ধরা পড়ার পর নিজেই জবাই করে হরিপুর বাজারে খাসির মাংস বলে বিক্রি করতে যান আশরাফুল; কিন্তু মাংসের রঙ অতিরিক্ত লাল হওয়ার কারণে বাজারের লোকজনের সন্দেহ হয়। এরপর তাকে জেরা করার একপর্যায়ে আশারফুল স্বীকার করে খাসি নয় শিয়ালের মাংস বিক্রি করতে এসেছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে মাংস উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মাধ্যমে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। এরই ফাঁকে এলাকা থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত কসাই আশরাফুল।  এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরওয়ার হোসেন বলেন,আশরাফুল নামের ওই কসাই মাংস বিক্রি করতে গেলে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মাংস উদ্ধার করা হয়েছে; কিন্তু পুলিশ যাওয়ার আগেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত কসাই। এ ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান তিনি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার সরকার জানান, আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ফাঁদ পেতে শিয়াল ধরার পর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে গিয়েছিলেন আশরাফুল নামের ওই কসাই। মাংসটি শিয়ালের এমন সত্যতা পেয়েছি। এ ব্যাপারে থানায় নিয়মিত মামলা হবে বলে জানান তিনি।

পাবনা প্রতিনিধি> জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0

বরিশালে দায়ের আঘাতে বিড়ালের পা ভেঙে দিলেন নারী, থানায় অভিযোগ

হাসিনা খান

হাসিনা ফিরলেন ভোটের মাঠে

ছবি: প্রতিনিধি

গণভোট বিষয়ে কালীগঞ্জে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: প্রতিনিধি
খুলনায় সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহার ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পুনঃতদন্ত ও বিচারের দাবী

খুলনা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) খুলনায় শহীদ সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহার ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে তারা হত্যার পুনঃতদন্ত, মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িতদের সনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে মানিক সাহার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তার পরিবার, প্রেসক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন, রতন সেন পাবলিক লাইব্রেরি, উদিচী শিল্পী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, মানিক সাহা আমৃত্যু জনমুখী সাংবাদিকতা করেছেন, এবং এ কারণেই তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। ২২ বছর পার হলেও হত্যাকান্ডের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও জড়িতরা এখনও বিচার থেকে বঞ্চিত। পূর্বের রায় ছিল গোজামিলের রায়, যা পরিবারের ও সাংবাদিক সমাজের জন্য সন্তোষজনক নয়। কেইউজের সহ-সভাপতি কাজী শামিম আহমেদ সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্রনাথ সেন সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে যুগ্ম-মহাসচিব হেদায়েত হোসেন মোল্লা, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক মোঃ এনামুল হক, নিহত সাংবাদিকের ছোট ভাই প্রদীপ সাহা, প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মানিক সাহা, হুমায়ুন কবীর বালু, রশিদ খোকনসহ দেশের সাংবাদিকদের উপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যথাযথ বিচার না হওয়ায় সাংবাদিক নিরাপত্তা উদ্বেগজনক। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না হলে আন্দোলন ও সংগ্রামের কর্মসূচী নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের কাছে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নৃশংসভাবে নিহত হন সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহা। মৃত্যুর পর ২০০৯ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।  

খুলনা জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে গণভোটের প্রচারণায় স্থবিরতা, জেলা তথ্য অফিসের রহস্যজনক নীরবতা

ছবি: প্রতিনিধি

ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দায়সারা কাজের অভিযোগ

0 Comments