জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সম্ভাবনায় মৌলভীবাজার-৩ ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর বাড়ি মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে ঘেরাও করেছেন স্থানীয় সমর্থকরা।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের রাজনগর উপজেলার দত্তগ্রাম গ্রামের বাড়ি, এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রবের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ভাষানিগাঁও গ্রামের বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুল মান্নান নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। তবে জোটগত সিদ্ধান্তে তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে সমর্থকরা বাড়ি ঘেরাও করেন।
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট আব্দুর রব তার ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও জোটের স্বার্থে বিকালে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার হতে পারে। এটি জানতে পেরে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকার সমর্থকরা ঘরে অবস্থান নেন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইয়ামির আলী বলেন, “জনগণ পরিবর্তন চাইছিল। আমাদের প্রার্থীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তবে জোটগত কারণে প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এসেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যেতে পারি না।”
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও তাঁর চেয়ার দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন জামায়াতের এক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম আসামি একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মামলার বাদী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার আমলি আদালত-১ এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অভিযুক্তরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং তাঁর চেয়ার দখল করেন। ঘটনাটির দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মুজিদ জানান, সিআইডির তদন্তেও ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, একই মামলায় এর আগে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ ও আজমল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নতুন অফিস খোলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই সব ক্ষেত্রে আইনগতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ফখরুল বলেন, নয়াপল্টন কার্যালয় বিএনপির আন্দোলন ও কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং এর মাধ্যমে জনগণকে অনুপ্রাণিত করা হতো। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কেও তিনি জানান, সরকারি নিয়ম মেনে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে দলীয় সংযুক্তি ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ২২ মিনিটে তিনি বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এটি শহীদ মিনারে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে একদল যুবক ‘রাজাকার’ ও ‘একাত্তরের দালাল’–বিরোধী স্লোগান দেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত সমর্থকরাও স্লোগান দিলে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উভয় পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং নিরাপত্তা বলয় জোরদার করেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জোটের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপদে শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।