নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। দেয়ালে নেই পোস্টারের স্তূপ, গাছে ঝোলানো নেই ব্যানার বা ফেস্টুন। শহর ও গ্রামজুড়ে চোখে পড়ছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ।
তবে এই পরিবর্তনে ভোটের চিরচেনা উৎসবের আমেজ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনায় এবার পোস্টার ও অপচনশীল প্রচার সামগ্রী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে প্রচারের ধরন বদলে গেছে। প্রার্থীরা এখন মাইকিং, ব্যক্তি পর্যায়ের যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন ও সুধীজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে পরিবেশ দূষণ কমেছে এবং কাগজ-প্লাস্টিক বর্জ্যের চাপও নেই। তবে সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ বলছেন, পোস্টার না থাকায় প্রার্থীদের চেনার সুযোগ কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রবীণ ও ডিজিটাল সুবিধাবঞ্চিত ভোটাররা বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।
সৈয়দপুর শহরের গাড়িচালক মনিরুজ্জামান মুন বলেন, “আগে পোস্টার দেখে প্রার্থী চিনতাম, এবার কে দাঁড়িয়েছে ঠিকমতো জানি না।” একই কথা জানান কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুরের কয়েকজন দিনমজুর ও ছোট পেশাজীবী ভোটার।
অন্যদিকে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটাররা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, পোস্টার শুধু অর্থের অপচয় করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে। নতুন পদ্ধতিতে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে বলেও তারা মনে করেন।
পরিবেশবাদী সংগঠন সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, “নির্বাচনের পর বর্জ্যের পাহাড় তৈরি হওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, এবার তা নেই। এটি পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি।”
ইসির তফসিল অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার বন্ধ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, নীলফামারী-৪ আসনে পোস্টারহীন নির্বাচন পরিবেশে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও ভোটের মাঠের রঙিন উৎসবের আমেজ কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ পুড়ে অচল হয়ে পড়া বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি কোচ মেরামতের পর আবারও সচল করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা–এ। ৭৯৩৬ নম্বর কোচটি নতুন রূপে সাজিয়ে রেলের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৬ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে ঢাকার গোপীবাগ এলাকায় বেনাপোল এক্সপ্রেস–এ দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। এতে ৭৯৩৬ নম্বর কোচটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং ওই কোচে থাকা চারজন যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি–এর মেধাবী ছাত্র আবু তালহাও ছিলেন। পরে কোচটি মেরামতের জন্য ২০২৪ সালের ১৩ জানুয়ারি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হয়। কারখানার শিডিউল শাখার উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমিন রুবেল জানান, কোচটি দীর্ঘদিন সৈয়দপুর ইয়ার্ডে অপেক্ষমাণ ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারী মেরামতের জন্য তা কারখানার ক্যারেজ শপে পাঠানো হয়। সেখানে ৫২ কর্মদিবস কাজের মাধ্যমে ভারী মেরামত শেষে কোচটি আবার সচল করা হয় এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। কোচটি ২০২৪ সালেই চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল। কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমে কোচটি নতুনের মতো করে তৈরি করা হয়েছে। এখন দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একসময় আগুনে পুড়ে অচল হয়ে পড়েছিল। এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ জানান, ৭৯৩৬ নম্বর কোচটি এবার ঈদের যাত্রী পরিবহনে রেলবহরে যুক্ত করা হবে। এছাড়া নির্ধারিত টার্গেটের চেয়েও বেশি—১২৬টি কোচ মেরামত করে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার টাউন-নওয়াপাড়া মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাদল রায় চৌধুরী ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ গ্রামের মৃত অনন্ত রায় চৌধুরীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী একটি অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ঘাতক পিকআপ ভ্যানটির সন্ধান করা হচ্ছে এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে দুর্বৃত্তের গুলিতে সোহাগ শেখ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা পানের হাটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগ শেখ একই ইউনিয়নের দৈবকান্দী গ্রামের দাউদ শেখের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, রাতে সোহাগ শেখ গাড়ফা পানের হাট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে কাজী রমজানুল হক জানান, দুর্বৃত্তের গুলিতে সোহাগ শেখ নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।