দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য গয়না কেনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশফেরত যাত্রীদের মাধ্যমে বৈধভাবে স্বর্ণ আনার বিধান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
চলতি অর্থবছরে কার্যকর ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী, একজন বিদেশফেরত যাত্রী বছরে একবার কোনো শুল্ক ও কর ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম সোনার অলংকার দেশে আনতে পারবেন, যা প্রায় ৮ ভরি ১০ আনার সমান। তবে এ ক্ষেত্রে অলংকারের সংখ্যা ১২টির বেশি হতে পারবে না।
এ ছাড়া নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধের মাধ্যমে স্বর্ণবার আনার সুযোগও রয়েছে। বিধি অনুযায়ী, তোলাপ্রতি ৫ হাজার টাকা শুল্ক দিয়ে বছরে একবার সর্বোচ্চ ১০ তোলা ওজনের একটি সোনার বার আনা যাবে।
স্বর্ণ বা শুল্কযোগ্য পণ্য আনলে যাত্রীকে বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ঘোষণা ফরম পূরণ করতে হবে। তবে সঙ্গে থাকা সোনার অলংকার ১০০ গ্রাম ও রুপার অলংকার ২০০ গ্রামের কম হলে আলাদা ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল ব্যবহার করে বিমানবন্দর ত্যাগ করা যাবে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, এসব বিধান মেনে চললে স্বর্ণ আমদানিতে কোনো আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন হাদির স্ত্রী এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবিরসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। তাদের সঙ্গে আরও সদস্য যোগ হওয়ায় যমুনা অভিমুখী সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্থায়ীভাবে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। অবস্থানরতরা প্রধান উপদেষ্টা থেকে স্পষ্ট বার্তা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে হাদি হত্যার তদন্তের জন্য অনুরোধ জানাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। তারা ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন হাদি। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। হত্যার ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চ ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা বা নির্বাচনের পর সহিংসতার কোনো আশঙ্কা নেই। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) খুলনা কমিশনারেট কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই। মোট সাত দিনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে—ভোটের আগে চার দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পর দুই দিন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনে প্রায় এক লাখ সেনা, ৫ হাজার নৌবাহিনী, ৪ হাজার কোস্ট গার্ড, ৩ হাজার ৫০০ নেভি, এক লাখ পুলিশ, ৩৭ হাজার বিজিবি, ৯ হাজার র্যাব এবং পাঁচ লাখের বেশি আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ও বডি ক্যামেরা থাকবে। ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশকে জটিল করে তুলতে পারে। তাই দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি।
ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন বিচারিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকার প্রেক্ষাপটে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কানাডা থেকে পাঠানো তার পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে পৌঁছায়। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, প্রাপ্ত পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, বিচারপতি মামনুন রহমান এক বছরের বেশি সময় ধরে বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির কাছে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করে। পারিবারিক সূত্র তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কেউ অপসারিত, কেউ বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন, আবার কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। বিচারপতি মামনুন রহমান সেই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব ত্যাগকারী বিচারপতিদের একজন।