কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মণ্ডলভোগ গ্রামে নিজ ছেলের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান মো. বজলুর রহমান (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা–ছেলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অটোরিকশাচালক ছেলে জুবায়ের (২৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাবাকে আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় বজলুর রহমানকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত জুবায়েরকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
রংপুরে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় আসামি পারভেজ রহমান পলাশ (২৬)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মার্জিয়া খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় মাদকাসক্ত পলাশের ছুরিকাঘাতে হারাগাছ থানার এএসআই পিয়ারুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যা ও মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পলাশকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া অন্যান্য ধারায় তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বরিশালের বানারীপাড়ায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারিয়া আক্তার (১৮) নামে এক সন্তানের জননী মারা গেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। জানা যায়, বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের মারিয়া আক্তারের সঙ্গে রবিউল মৃধার বিয়ের তিন বছর হলো। তাদের সংসারে দুই বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে দম্পতি ঢাকার নন্দীপাড়ার ছোট বটতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রবিউল লেগুনা গাড়ির চালক। মারিয়ার বাবা কবির হাওলাদারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবী, বিয়ের সময় প্রতিশ্রুত স্বর্ণের দুল না দেওয়া ও মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় রবিউল দীর্ঘদিন ধরে মারিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। স্ত্রীকে নির্যাতনে স্বামীর মা ও বোনও সহযোগিতা করতেন। গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রবিউল মারিয়াকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। চিকিৎসা না করিয়ে বাসায় ফেলে রাখার কারণে তার অবস্থার অবনতি হয়। ৮ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে মারিয়ার মা হাফিজা বেগম ঢাকาจান। গুরুতর আহত অবস্থায় মারিয়াকে পূর্ব সলিয়াবাকপুরের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে অবস্থার অবনতি ঘটলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে মারা যান। বানারীপাড়া থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যার ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে আসামী করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এলাকাজুড়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বইছে। বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে মা, ছেলে ও নাতিসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দেবীগঞ্জ থানার পুলিশ ওসি সেলিম মালিকের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ কুমার বসাক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ১১ জনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় এবং দুই জনের বিরুদ্ধে দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মজিবর রহমানের স্ত্রী তহমিনা বেগম (৭৫), তার ছেলে মো. হানিফ (৪৪) ও নাতি মো. মিস্টার আলী (২৩) রয়েছেন। এছাড়া দেবীগঞ্জ ও নীলফামারীর অন্যান্য এলাকা থেকে আরও ১০ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তহমিনা বেগমের কাছ থেকে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ বাড়িতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অভিযানে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়িটি ঘিরে ধরেন এবং আসামিদের আটক করেন। একইদিনে দেবীগঞ্জ পৌরসদরের সাহাপাড়া এলাকায় রাজু ইসলামকেও মাদক সেবনরত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। ওসি সেলিম মালিক বলেন, “উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।” গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।