একটি সাইরেন, একগুচ্ছ আশা আর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান। জরুরি রোগী পরিবহনের সংকট কাটাতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে ব্যক্তি উদ্যোগে চালু হয়েছে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এতে স্বস্তি ফিরেছে প্রত্যন্ত এই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।
দীর্ঘদিন ধরে বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে অসুস্থ রোগী, প্রসূতি কিংবা দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। জরুরি মুহূর্তে একটি যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হতো রোগী ও স্বজনদের। সেই সংকট দূর করতে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল হোসেন বাচ্চুর উদ্যোগে চালু করা হয় অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি।
নতুন এই সেবার যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করা হয় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার। ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও গলি প্রদক্ষিণ করে স্থানীয়দের অ্যাম্বুলেন্স সেবার বিষয়ে জানানো হয়। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
উদ্যোক্তা দুলাল হোসেন বাচ্চু বলেন, জরুরি মুহূর্তে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ এ সংকটে ভুগছিলেন। জনগণের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই ব্যক্তি উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি চালু করা হয়েছে। মানুষের সেবা করতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানান।
উদ্যোক্তারা জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেবা দেবে। এর জন্য দুইজন চালক দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে ইউনিয়নের কোনো বাসিন্দা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনে পড়লে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তঘেঁষা ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুন অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর ফলে সংকটময় সময়ে দ্রুত রোগী হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে প্রসূতি, গুরুতর অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ব্যক্তি উদ্যোগে চালু হওয়া এই সেবাটি দীর্ঘদিন মানুষের কল্যাণে কার্যকর থাকবে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়বে।