নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানারহাট–বাংলাবাজার সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রয়েছে। বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা কার্পেটিং ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে যেন এক ‘মৃত্যুফাঁদ’। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। ফলে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর খাদ—তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে প্রায়ই মোটরসাইকেল, রিকশা ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক পথচারীও পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুফফা গার্লস মাদরাসাসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহনও চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এম. শরীফ ভূঞা বলেন, “এটি শুধু একটি ভাঙা রাস্তার গল্প নয়, এটি হাজারো মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগের গল্প। একাধিকবার বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মানুষের কষ্ট লাঘবে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা জরুরি।”
প্রবাসী পারভেজ হোসাইন বলেন, “বিদেশে বসে দেশের উন্নয়নের খবর শুনি। কিন্তু নিজের এলাকার এই সড়কের অবস্থা দেখে খুবই কষ্ট লাগে। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের সুফল পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া সম্ভব নয়।”
থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নয়ন বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। অভিভাবকেরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে আগে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে।”
সুফফা গার্লস মাদরাসার শিক্ষার্থী সাদিকা ভূঞা সুবহা জানায়, “বৃষ্টি হলে রাস্তা দিয়ে হাঁটতেই ভয় লাগে। অনেক সময় জুতা কাদায় আটকে যায়, আবার গর্তে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। আমরা দ্রুত একটি নিরাপদ রাস্তা চাই।”
এক রিকশাচালক বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা মানেই বাড়তি ঝুঁকি ও লোকসান। প্রতিনিয়ত রিকশা নষ্ট হচ্ছে, যাত্রীরাও উঠতে ভয় পান। তবুও জীবিকার তাগিদে এই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।”
হাসপাতালে যাওয়ার পথে এক রোগী বলেন, “অসুস্থ অবস্থায় এই রাস্তার ঝাঁকুনি সহ্য করা খুব কষ্টের। মনে হয় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শরীর আরও খারাপ হয়ে যাবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, আর আশ্বাস নয়—অবিলম্বে থানারহাট–বাংলাবাজার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত ও দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।