বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সড়কের পাশে দুই বছরের এক শিশুকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। পরে শিশুটিকে দাদির কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনিও দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে নিয়ে গেলে তার দায়িত্ব নেন ইউএনও মো. হাবিবুল্লাহ।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ১৪ নম্বর বারইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে পাড়ার একটি ইটভাটার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে সড়কের পাশে একা শিশুটিকে কাঁদতে দেখে কয়েকজন এগিয়ে যান। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দাদিও শিশুটির দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয়রা তাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে যান।
শিশুটিকে দেখে ইউএনও মো. হাবিবুল্লাহ তাকে কোলে তুলে নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তার নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় যত্নের ব্যবস্থা করেন। শিশুটির পরনে প্রয়োজনীয় পোশাক না থাকায় নিজের বাসা থেকে জামাকাপড় এনে তাকে পরিয়ে দেন। পরে শিশুটির খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থাও করা হয়।
শিশুটির সাময়িক নিরাপত্তা ও দেখভাল নিশ্চিত করতে ইউএনও সবার উপস্থিতিতে তার ফুফু রেশমা খাতুনের কাছে তিন দিনের ভরণ-পোষণের জন্য আর্থিক সহায়তাসহ শিশুটিকে সাময়িকভাবে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা মো. পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইউএনও। এ সময় পলাশ জানান, তিনি বর্তমানে মোরেলগঞ্জের বাইরে অবস্থান করছেন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিন দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সন্তানকে নিজের দায়িত্বে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ ঘটনায় শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ দেখভালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।