সংস্কারের অভাবে নীলফামারীর সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এখন প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টার্মিনালজুড়ে বড় বড় গর্ত, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা, জরাজীর্ণ ভবন এবং অবৈধ দখলের কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর বাসে ওঠানামা করছেন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে ১৯৮৪ সালে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। প্রথমে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলেও পরে এটি সৈয়দপুর পৌরসভার অধীনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর পৌরসভার বাজেটে টার্মিনাল সংস্কারের জন্য বরাদ্দ রাখা হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো এলাকা। টার্মিনাল ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের ভেতরে মাদকসেবী ও জুয়ারিদের আড্ডা বসার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া টার্মিনালের পাশে বালু ও খোয়ার ব্যবসা চলায় পরিবেশ আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
এই টার্মিনাল থেকে রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, নীলফামারী, জলঢাকা, ডোমার, চিলাহাটি, ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন রুটে শতাধিক বাস ও মিনিবাস চলাচল করে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোর ও সিলেটগামী দূরপাল্লার বাসও এখান থেকে ছেড়ে যায়।
নিয়মিত যাত্রী আবু হোসেন বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালে পানি জমে যায়। তখন বাস ভেতরে ঢুকতে পারে না, যাত্রীদেরও মহাসড়ক থেকে ওঠানামা করতে হয়। বসার জায়গার ছাদের পলেস্তারা পর্যন্ত খসে পড়ছে।”
রংপুরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী লুবনা ইয়াসমিন বলেন, “নারীদের জন্য টয়লেটসহ ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও নেই। সন্ধ্যার পর স্থানীয় যাত্রীদের অনেক সময় বাসে তোলা হয় না। এতে নারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী, নৈদা শাহ ও আব্দুস সামাদ বলেন, বহু বছর ধরে সংস্কারের নামে বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি। টার্মিনাল অচল হয়ে যাওয়ায় মহাসড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সৈয়দপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজ আলম বলেন, টার্মিনালের বাইরে যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। টার্মিনালটি দ্রুত সংস্কার করা হলে এ ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুই দশকের বেশি সময় ধরে টার্মিনালটি অবহেলায় পড়ে আছে। খানাখন্দে ভরা টার্মিনালে বাস প্রবেশ করতে না পারায় যাত্রীদের যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, তেমনি যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, “আমি প্রায় এক বছর ধরে দায়িত্বে আছি। আগের বরাদ্দ সম্পর্কে বলতে পারছি না। তবে চলতি বাজেটে বরাদ্দ পাওয়া গেলে টার্মিনাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”