শিরোনাম

১৫ দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কমল ২৫০ টাকা

১৫ দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কমল ২৫০ টাকা

ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির ফলে সাতক্ষীরার বাজারে কমতে শুরু করেছে ঝাঁঝালো এই নিত্যপণ্যের দাম। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩০০-৩২০ টাকা থেকে কাঁচা মরিচের দাম নেমে এসেছে ৭০-৮০ টাকায়। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

ভোমরা কাস্টম হাউসের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩২০টি ট্রাকে মোট ৪ হাজার ৯২ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। আমদানি বাড়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত কমতে থাকে দাম।

ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরাসহ আশপাশের এলাকার মরিচখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাবে জুলাইয়ের শেষ দিকে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। গত ২৯ জুলাই সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজারে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং পাইকারিতে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সরকার ২ আগস্ট ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয়। ৩ আগস্ট থেকে আমদানি শুরু হলে পরদিনই ভারতীয় কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ১৫০-১৬০ টাকা এবং দেশি মরিচের দাম ২০০-২২০ টাকায় নেমে আসে। এরপর আমদানি অব্যাহত থাকায় দাম আরও কমে বর্তমানে ৭০-৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুসা বলেন, ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানির ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং দাম কমেছে। আমদানি নিয়মিত থাকলে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।

সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচা-পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী বলেন, বর্তমানে বাজারে কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম স্থিতিশীল থাকবে।

ভোমরা কাস্টমস কমিশনার মোসফিকুর রহমান জানান, ৩ আগস্ট থেকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাসে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

তবে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় গত দুই-তিন দিন ধরে ভোমরা বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি প্রায় বন্ধ রয়েছে। আমদানিকারকেরা বলছেন, দাম কমে যাওয়ায় আমদানিতে মুনাফা কমেছে। কোনো কোনো ব্যবসায়ী লোকসানের মুখেও পড়েছেন।

আমদানিকারক ফারহাদ হোসেন বলেন, আগস্টজুড়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে চাহিদা বাড়তে পারে। আমদানির অনুমতি পাওয়া গেলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আবার আমদানি শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে।

এদিকে আমদানির ফলে ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও উদ্বেগ বেড়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। অতিরিক্ত আমদানির কারণে দেশি মরিচের দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে গেলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোক্তাদের জন্য সহনীয় দাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর