শিরোনাম

একসঙ্গে এসএসসি পাস মা-মেয়ের, মায়ের নম্বর বেশী

একসঙ্গে এসএসসি পাস মা-মেয়ের, মায়ের নম্বর বেশী
ছবি: প্রতিনিধি

লেখাপড়ায় বয়স কোনো বাধা নয়—এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ৪৮ বছর বয়সী সাবিয়া বেগম। মেয়ের সঙ্গে একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেয়ের চেয়েও বেশি নম্বর পেয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

সাবিয়া বেগম সৈয়দপুর উপজেলার গোলাহাট এলাকার ট্রাকচালক আব্দুল মান্নান শাহর স্ত্রী। তিনি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-৩ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার সৈয়দপুর আসমাতিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৩.৬৪ পেয়েছেন। অন্যদিকে তার মেয়ে মাফরুহা শাহ স্থানীয় ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৩.৫০ অর্জন করেছে।

জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ ছিল সাবিয়া বেগমের। তবে রেলে কর্মরত বাবার স্বল্প আয়ের সংসারে অভাব-অনটনের কারণে অল্প বয়সেই তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে।

সংসার ও সন্তানদের দেখাশোনার মধ্যেও লেখাপড়ার স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি। ছোট মেয়ে মাফরুহা শাহ নবম শ্রেণিতে ভর্তি হলে তিনিও নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে মা-মেয়ে একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

ফল প্রকাশের পর আনন্দ প্রকাশ করে সাবিয়া বেগম বলেন, নিজেকে একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তিনি আবার লেখাপড়া শুরু করেন। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করলেও স্বামী ও মেয়েদের উৎসাহ তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।

তিনি বলেন, “পড়াশোনার কোনো বয়স নেই। ইচ্ছা থাকলে যে কোনো বয়সে শিক্ষা অর্জন সম্ভব।” ভবিষ্যতে দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনেরও ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

সাবিয়ার স্বামী আব্দুল মান্নান শাহ বলেন, স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকতে পেরে তিনি গর্বিত। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনায় সহযোগিতা করবেন।

আসমাতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার কাজী আনোয়ারুল হক বলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো বয়সেই সাফল্য অর্জন সম্ভব—সাবিয়া বেগম তার বাস্তব উদাহরণ।

পৌর মেয়র রাফিকা আখতার জাহান বলেন, মেয়ের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফল অর্জন সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর