নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, রামদা, চাপাতি, তালা কাটার কাঁচি, লোহার কোরাবারীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও সাত থেকে আটজন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকলমী এলাকার চৌরাস্তা বাজারের উত্তরে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিত্যক্ত আশ্রয়কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে এ অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কেশবপুর এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক (৫৫), নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকলমী এলাকার নুর মোহাম্মদ (৩২), মো. নুর নবী (৩৯), সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকার মো. আজিজুল মোস্তাফা (৩৫), মহিউদ্দিন হোসেন (২৮) ও মিজানুর রহমান (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্বে ছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, চরকলমী এলাকার একটি পাকা সড়কে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে ছয়জনকে আটক করা হয়। এ সময় আরও সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের দেখানো মতে একটি রুপালি রঙের টয়োটা সাকসিড প্রাইভেটকারের পেছনের ডালা থেকে অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গাড়িটির নম্বর চট্ট মেট্রো-গ-১১-৯০৮৭।
জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ২৬ ইঞ্চি লম্বা একটি রামদা, প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত ১৮ ইঞ্চি লম্বা একটি কাটার, ‘স্টিল টেক’ লেখা ১৫ ইঞ্চি লম্বা একটি চাপাতি, ২৪ ইঞ্চি লম্বা একটি পুরোনো লোহার কোরাবারী, বিভিন্ন রঙের তিনটি পুরোনো গামছা ও একটি কালো কাপড়ের টুকরা।
কোম্পানীগঞ্জ থানার কর্মকর্তা নুরুল হাকিম জানান, আটক ছয়জন ও পলাতক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় মামলা করার জন্য এজাহার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা আলামত জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।