সাতক্ষীরার নগরঘাটা ইউনিয়নে দুস্থ ও অসচ্ছল রোগীদের জন্য নিজ অর্থায়নে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সমাজসেবক ইবাদুল ইসলামসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে নগরঘাটা ইউনিয়নের পোড়ারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ইবাদুল ইসলাম (৪৫), স্থানীয় জামায়াত নেতা সেলিম রেজা (২৮), রাকিব অটো মিলের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম (৪৭), অপারেটর জয় সরকার (২৪), কর্মচারী মতিউর রহমান (৪৬), প্রবীর সরকার (২১) ও ইবাদুল ইসলামের ছেলে রাকিব আহমেদ (২২)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহাব্বত হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহাব্বত হোসেন।

অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই হামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরঘাটা ইউনিয়নের দুস্থ ও অসচ্ছল রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুবিধার্থে রাকিব অটো মিলসের মালিক ইবাদুল ইসলাম প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স কিনে দেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ত্রিশমাইল বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্সটির উদ্বোধন করা হয়।
ইবাদুল ইসলামের দাবি, রাত ৮টার দিকে পোড়ারহাট এলাকায় একজন রোগীকে আনার জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি পাঠানো হয়। রাত ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, “এলাকার সাধারণ, অসহায় মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। তাদের বিনামূল্যে হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছি। এটি উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”

ইবাদুল ইসলামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় তিনি পাটকেলঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বিএনপি নেতার দাবি, ‘হামলা নয়, ধস্তাধস্তি’
অভিযোগের বিষয়ে নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহাব্বত হোসেন বলেন, “ইবাদুল ইসলাম একজন সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট। তাদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি, ধস্তাধস্তি হয়েছে। আমাদের লোকজনও আহত হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, ইবাদুল ইসলাম পোড়ারহাটের একটি কমিউনিটি ক্লিনিককে নিজের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার প্রতিবাদ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইবাদুল ইসলামের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ায় রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর নগরঘাটা ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।