সুন্দরবনে বাঘের হামলায় স্বামী হারানো ৩১টি পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে দুটি করে ছাগল দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের হাতে ছাগল তুলে দেওয়া হয়। উপকারভোগীদের মধ্যে গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পাশাপাশি খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন।
আয়োজকরা জানান, বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো এসব পরিবারের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। ছাগল পালনের মাধ্যমে তাদের পরিবারের আয় বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহাসিন উল হাকিম। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফরিদা খাতুন, জিএম মুনজুর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জিএম মাসুদুল আলম বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের বাঘ বিধবা পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের হাতে ছাগল তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি মানবিক ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে তারা নিজেরাই আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
মহাসিন উল হাকিম বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলের মানুষের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত কঠিন। বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীরা পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকেও হারিয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্ব।
ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান বলেন, বাঘ বিধবা পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। ছাগল বিতরণের মাধ্যমে তাদের হাতে এমন একটি সম্পদ তুলে দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আয়ের উৎস হতে পারে। পর্যায়ক্রমে আরও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা থাকবে।
ছাগল পেয়ে উপকারভোগী নারীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ছাগল পালন থেকে বাড়তি আয় হলে সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে তা সহায়ক হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুন্দরবনসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।