পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক বিধবা নারীর ভাতার টাকা নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (৩০ আগস্ট) দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুল খালেক টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়া এলাকার মোছা. রহিমা বেগম ২০২০ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ভাতার টাকা পাননি।
পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে রহিমা বেগম জানতে পারেন, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁর নামে বরাদ্দকৃত বিধবা ভাতার টাকা একটি মোবাইল নম্বরে পাঠানো হয়েছে। ওই নম্বরটি হলো ০১৯১৭-৩৬৭৪৯২।
অনুসন্ধানে ওই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অফিস সূত্রের দাবি, গত ছয় বছরে ওই নম্বরে রহিমা বেগমের নামে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পাঠানো ও উত্তোলন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার দুপুরে রহিমা বেগমের পক্ষে তাঁর ছেলে মো. জহুরউদ্দীন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তাঁর মায়ের নামে বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা উদ্ধার করে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, “ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এছাড়া ভুক্তভোগীর ছেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, ভাতার অর্থ কোথায় এবং কীভাবে উত্তোলন করা হয়েছে—এসব বিষয় স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।