অস্ট্রেলিয়া-ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।
অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি কথিত ভিসা প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে চক্রটির মূলহোতা হিসেবে সাহাবুল ইসলাম সাবুল নামে এক তাঁতী লীগ নেতাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের খোলাহাটি মুক্তা হিমাগার সংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—নিতাই কাছারীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সাহাবুল ইসলাম সাবুল (২৪), নীলফামারী সদরের বাটুলটারী গ্রামের মোখলেচার রহমানের ছেলে সাজু মিয়া (২৮), মেচকার আলীর ছেলে আজিনুর ইসলাম (২৪), এমলাক হোসেনের ছেলে ইলিয়াছ মিয়া (২৪), মাইক্রোবাসচালক সজিব মিয়া (২৬) ও হেলপার সাফিউল ইসলাম (২৮)।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট, অস্ট্রেলিয়ার ভিসার দুটি আবেদনপত্র, প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, জব্দ করা মোবাইল ফোনে ভুয়া ভিসার বিভিন্ন কপি ও অনলাইন জুয়ার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভিসা প্রতারণার অভিযোগ
পুলিশের ভাষ্য, সাহাবুল ইসলাম সাবুল দীর্ঘদিন ধরে থাই লটারিতে বিজয়ী করে দেওয়ার প্রলোভন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন যুবকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ আরও জানায়, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি থাই লটারি ও ভিসা প্রতারণার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান সাহাবুল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি।
সম্প্রতি যশোর থেকে ফেরার পথে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
দুটি মামলার প্রস্তুতি
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল গফুর জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ও অনলাইন জুয়া আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।