গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ও উপকরণের সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে পিল, কনডম, ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডিসহ বিভিন্ন উপকরণের ঘাটতিতে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সেবাগ্রহীতারা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রত্যন্ত এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ।
সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বল্প খরচে কিংবা বিনামূল্যে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাওয়ার আশায় আসা অনেককে প্রয়োজনীয় উপকরণ না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ফার্মেসির ওপর নির্ভর করছেন। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে তাদের সময় ও ব্যয়, অন্যদিকে সরকারি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তিন মাসেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা
উত্তর সোম এলাকার সেবাগ্রহীতা আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে পরিবারের জন্য কম খরচে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাওয়ার আশায় তিনি সেখানে যান। কিন্তু গত তিন মাস ধরে প্রয়োজনীয় উপকরণ না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে পারছেন না। ফলে সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিবার পরিকল্পনা সেবা জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘদিন সরবরাহ ঘাটতি থাকলে সরকারি সেবার ওপর মানুষের আস্থা কমার পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে দ্রুত সংকট নিরসন এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
সরঞ্জাম সংকটের সত্যতা স্বীকার
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হোসনেয়ারা বেগম সরঞ্জাম সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের পিল, পুরুষদের কনডম, ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি রয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা খাতুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সংকট: জেলা কার্যালয়
গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী অক্টোবরে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।
আগেও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রশ্ন
উল্লেখ্য, চলতি বছরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ত্রুটি ও অনিয়মের বিষয় নজরে আসে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। ওই সময় কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিতও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন করে পরিবার পরিকল্পনা উপকরণের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের বিষয়টি সামনে আসায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সরবরাহ ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত সংকট নিরসন করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে ও সহজলভ্য পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।