নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ৫ আগস্টের পর সবচেয়ে বড় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে লাল বাহিনীর তাজুল, বিলাই সনেট গ্রুপের সদস্য জুয়েলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বিশেষ অভিযানে প্রথম ধাপে আল আমিন (৪৫), ছগির (২৩), সিফাত (২২), আদন (২১), জুনাইদ (২০), মাহিদ (১৯), ইয়াদুল (২১), আকাশ (২১), সজিব (৩৫), আল আমিন (৩৯), ডালিম (২১) ও সাদেক (২৩) নামে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে আল আমিনের বিরুদ্ধে ১৫টি, ছগিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণসহ ২টি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইয়াদুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এছাড়া ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে শালিধা ও আশপাশের এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে নরসিংদী মডেল থানার একটি বিস্ফোরক ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং আবু লাল গ্রুপের সদস্য জুয়েল (৩২), হোসনা (২৫) এবং তদন্তে সন্দেহভাজন কাউসার (২৮) ও শাহরিয়ার আলম সম্রাট (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত আরেকটি মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন সনেট গ্রুপের সদস্য মারুফ রহমান (২৫) ও সাগর (২১)কেও আটক করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার জুয়েলের বিরুদ্ধে ১৬টি, কাউসারের বিরুদ্ধে ১৩টি এবং মারুফ রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ আর এম আল মামুন অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
পুলিশের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সক্রিয় সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।