শিরোনাম

আজ সে গেছে, কাল হয়তো আমাদের পালা

আজ সে গেছে, কাল হয়তো আমাদের পালা

একজন মানুষের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়— আজ সে গেছে, কাল হয়তো আমাদের পালা। তাই মৃত্যুকে উপহাস বা প্রতিহিংসার উপলক্ষ না বানিয়ে শিক্ষা, সহমর্মিতা ও আত্মসমালোচনার উপলক্ষ বানানোই মানবিকতার পরিচয়।

সুতরাং কোনো মানুষের মৃত্যুর খবর শুনে “আলহামদুলিল্লাহ” বলা—এটি প্রসঙ্গ, উদ্দেশ্য ও মানসিকতার উপর নির্ভর করে ভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে। ইসলামি দৃষ্টিতে সাধারণভাবে মৃত্যুতে শোক, দোয়া ও ধৈর্যের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাই কারও মৃত্যুতে খুশি প্রকাশ করা বা বিদ্বেষপূর্ণ উল্লাস দেখানো নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

তবে কিছু ক্ষেত্রে মানুষ “আলহামদুলিল্লাহ” বলেন ভিন্ন অর্থে। যেমন—যদি মৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন কষ্টে ভুগে থাকেন, তখন কেউ বলতে পারেন—“আলহামদুলিল্লাহ, তিনি কষ্ট থেকে মুক্তি পেলেন।”

কোনো অত্যাচারী বা ভয়ঙ্কর অপরাধীর মৃত্যুতে কেউ মনে করতে পারেন সমাজ একটি ক্ষতি বা আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেল।

আবার অনেকে অভ্যাসবশত সব অবস্থাতেই “আলহামদুলিল্লাহ” বলেন, অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার ফয়সালার প্রতি সমর্পণ বোঝাতে। কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন এই শব্দটি সহানুভূতি হারিয়ে বিদ্রুপ, ঘৃণা বা নিষ্ঠুর আনন্দের ভাষা হয়ে দাঁড়ায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজকাল এমন প্রবণতা দেখা যায়—কেউ মারা গেলেও মানুষ আগে তার রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বিচার করে প্রতিক্রিয়া দেয়। এতে মানবিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইসলামে মৃত্যু সংবাদে সাধারণত বলা হয়—

“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” অর্থাৎ, “আমরা আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব।”

এর মাধ্যমে শোক, বিনয় ও জীবনের অনিত্যতা স্মরণ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর