শিরোনাম
সোয়া ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে ১২ হাজার ৮২৫ টাকা সেশন ফি

আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে ১২ হাজার ৮২৫ টাকা সেশন ফি

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তরণের জন্য ১২ হাজার ৮২৫ টাকা করে আদায়ের নোটিশ জারি করা হয়েছে। এভাবে ছাত্রদের কাছ থেকে প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আগামীকাল রবিবারের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন দেওয়া হবে না বলেও শিক্ষার্থীদের সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে প্রায়  ১হাজার ৭শত ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১২ হাজার ৮২৫ টাকা করে আদায় করা হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাড়ায় ২ কোটি ২৪ লাখ ৪ হাজার ৩৭৫ টাকা। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো অর্থটি সেশন ফি নয়; এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ফি, পরিবহন, বিশেষ পরিচর্যা ফি এবং এক মাসের বেতনসহ বিভিন্ন খাত রয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তরণের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের যৌক্তিকতা তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়ায় অনেক অভিভাবকও চাপের মধ্যে পড়েছেন।

এক শিক্ষার্থীর বাবা, নরসিংদীর একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে নীরবে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই নীরব চাঁদাবাজির কি কোনো বিচার হবে না?”

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, প্রায় ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত হিসাব তাদের দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে পরিবহন ব্যবহার না করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও পরিবহন-সংক্রান্ত ফি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফাউন্ডেশন থেকে যেভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়, আমরা সেভাবেই কাজ করে থাকি।”

তিনি বলেন, “পুরোটা সেশন চার্জ নয়। সেশন চার্জ মাত্র ৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ফি, পরিবহন, বিশেষ পরিচর্যা ফি এবং এক মাসের বেতন রয়েছে।”

পরিবহন ব্যবহার না করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও পরিবহন ফি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জানান, বিষয়টি নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। আর বিশেষ পরিচর্যা ফি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরিচর্যার জন্য এ অর্থ নেওয়া হয়। তবে অভিভাবকদের প্রশ্ন, মেধাবী ও পরীক্ষায় অকৃতকার্য না হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও একই ধরনের ফি কেন নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করা হলে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও যৌক্তিকতা অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীন ফি, পরিবহন ব্যবহার না করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরিবহন ফি এবং বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন না থাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ফি আদায় করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে সেশন ফি আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অর্থ আদায়ের খাতগুলো যাচাই করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সচেতন অভিভাবকরা জানায়, আমরা কোনভাবেই এই টাকা দিতে চাইনা। প্রয়োজনে জেলার সচেতনমহলের সাথে পরামর্শ করে আমরা আইনি লড়াইয়ে নামবো। এছাড়া বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন গুলোকে এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কোমলমতি ছাত্রদের সার্থে এগিয়ে আসার জন্যও আহবান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর