বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ছাত্রশিবিরের পূর্বঘোষিত ‘অদম্য জুলাই’ র্যালিকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটসংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছাত্রশিবিরের ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির র্যালি ক্যাম্পাস থেকে মহাসড়কে উঠলে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিলে বহিরাগত থাকার অভিযোগ তুলে কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের কিছু নেতাকর্মীর হাতে লাঠিসোঁটা ও প্লাস্টিকের পাইপ দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলামসহ অন্তত ১২ থেকে ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাব্বির হোসেন (বাংলা বিভাগ), আল আমিন, হাফিজ সিদ্দিক, হেলাল আহমেদ, আবদুল্লাহি বাকি (ইংরেজি বিভাগ), আল মামুন সিয়াম, তায়েফ ও শারাফাত সিফাত। তাদের কয়েকজন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্রদলের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ইমরান, সিফাত, হৃদয়, জাহিদ, তারিকুল, প্রান্ত, হেনা ও আবদুর রহিমসহ কয়েকজন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানের চেষ্টা করা হলে ছাত্রদল তা প্রতিহত করেছে।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বেলাল হোসাইন বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।