বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট কবি, সম্প্রচার সাংবাদিক ও কলামিস্ট কাজী জেসিন। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের নেতৃত্বে তার এই নিয়োগকে গণমাধ্যম অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সাংবাদিকতা, সাহিত্যচর্চা এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন দেশের সবচেয়ে পুরোনো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দায়িত্বে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তার নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০১-এর ধারা ১১(২) অনুযায়ী, অন্য কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধায় জন্ম নেওয়া কাজী জেসিন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তিনি ‘টেকসই উন্নয়ন ও লিডারশিপ’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম (IVLP)’-এর ফেলো হিসেবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিউ মিডিয়া টেকনোলজি বিষয়ে বিশেষ ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন।
সাংবাদিকতা ও সাহিত্য—দুই অঙ্গনেই রয়েছে তার দীর্ঘ পথচলা। ১৯৯৭ সালে লিটল ম্যাগাজিনে লেখালেখির মাধ্যমে সাহিত্যজীবন শুরু হলেও পরবর্তীতে তিনি টেলিভিশন সাংবাদিকতায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, এটিএন বাংলা, একুশে টিভি, বাংলাভিশন ও যমুনা টিভিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক বেসরকারি টেলিভিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত কলাম ও প্রবন্ধ লিখছেন।
কবি হিসেবেও কাজী জেসিনের পরিচিতি রয়েছে। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘জোৎস্নামত্ত যাত্রা’ (১৯৯৭) এবং ‘তানানুম তানানুম’ (২০১০)।
ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম হিসেবে বিটিভির আধুনিকায়ন, দর্শক আস্থা পুনর্গঠন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চ্যালেঞ্জের মুখে দায়িত্ব নিলেন কাজী জেসিন। সম্প্রচার সাংবাদিকতা, নতুন মিডিয়া প্রযুক্তি ও সাহিত্যচর্চার অভিজ্ঞতা এই দায়িত্ব পালনে কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, সে দিকেই এখন নজর গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের।