বর্ষার স্নিগ্ধ সবুজ প্রকৃতিতে শুভ্রতার আবেশ ছড়াচ্ছে কাঠ মালতী ফুল। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পার্ক, বাড়ির আঙিনা ও বাগানে ফুটে থাকা দুধ-সাদা এই ফুল নজর কাড়ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। সবুজের মাঝে সাদা ফুলের সমারোহে যেন বর্ষার প্রকৃতি পেয়েছে নতুন সাজ।
কাঠ মালতী আমাদের দেশে কাঠমল্লিকা বা টগর গোত্রের শোভাবর্ধনকারী ফুল হিসেবে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Tabernaemontana divaricata। সারা বছরই ফুল ফুটলেও গ্রীষ্ম ও বর্ষায় এর সৌন্দর্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে।
সরেজমিনে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের চোয়ারিখোলা এলাকায় সবিতা সেনের বাড়ির আঙিনায় দেখা যায়, ঝোপজাতীয় গাছজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য সাদা কাঠ মালতী। চারপাশের সবুজের মধ্যে ফুলগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে নির্মল সৌন্দর্য। পথচারীদের অনেকেই থেমে ফুল দেখছেন, কেউবা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।
সোমখালী এলাকার ফুলপ্রেমী হীরা রোজারিও বলেন, কাঠ মালতী সহজে পরিচর্যা করা যায় এবং অল্প যত্নেই বেড়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ফুল ফুটে থাকায় এটি বাড়ির আঙিনা ও বাগানের সৌন্দর্য বাড়ায়। ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছি ও প্রজাপতির আনাগোনাও বাড়ে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক।
স্কুল শিক্ষক কাজী কেরামত বলেন, কাঠ মালতী শুধু সৌন্দর্যবর্ধক ফুল নয়, এটি সহজে চাষযোগ্য একটি উদ্ভিদ। বাড়ির আঙিনা, পার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী পোকামাকড়ের আনাগোনা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, পরিবেশের সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাঠ মালতীসহ দেশীয় শোভাবর্ধনকারী ফুলগাছের চারা রোপণে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।
বর্ষার সবুজ প্রকৃতির মাঝে কাঠ মালতীর শুভ্র উপস্থিতি তাই শুধু দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যই তৈরি করছে না, স্থানীয় জীববৈচিত্র্যেও যোগ করছে এক নীরব সৌন্দর্য।