শিরোনাম
ফুটবলার আব্দুল গফুর

নরসিংদীর ফুটবলের কিংবদন্তি স্কুটার গফুরকে ভুলেই যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম

নরসিংদীর ফুটবলের কিংবদন্তি স্কুটার গফুরকে ভুলেই যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম

বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন আব্দুল গফুর ভূঁইয়া, যিনি ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ‘স্কুটার গফুর’ নামেই সমধিক পরিচিত। ষাট ও সত্তরের দশকে মাঠজুড়ে তাঁর দুরন্ত গতি, নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগের নৈপুণ্য তাঁকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। অথচ সময়ের পরিক্রমায় নরসিংদীর এই কিংবদন্তিকে ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

নরসিংদীর দগরিয়া গ্রামের সন্তান আব্দুল গফুর স্থানীয় ফুটবল থেকে উঠে এসে ঢাকার মাঠে নিজের অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতির কারণে দর্শক-সমর্থকেরা স্নেহভরে তাঁকে ‘স্কুটার গফুর’ নামে ডাকতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে তাঁর পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ফুটবলের উত্থানপর্বে তিনি ছিলেন অন্যতম সেরা তারকা। দেশের ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্রীড়া চক্রের জার্সিতে খেলে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে আবাহনীর হয়ে প্রথম গোল করার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে কলকাতার আইএফএ শিল্ডে আবাহনীর ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবেও তিনি নরসিংদীর ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিন নরসিংদী জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্ব দিয়ে জেলার ফুটবলকে সুসংগঠিত করেন এবং তাঁর হাত ধরে অসংখ্য তরুণ ফুটবলার জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পান। এছাড়া তিনি পলাশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জিআরসি স্পোর্টিং ক্লাবের হয়েও খেলেছেন।

নরসিংদী জেলা প্রশাসনের তথ্যেও জেলার ক্রীড়া ইতিহাসে স্কুটার গফুরকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ৬ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। তাঁর মৃত্যুতে নরসিংদীসহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অবদান অনেকটাই আড়ালে পড়ে গেছে।

ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টদের মতে, স্কুটার গফুরের মতো কিংবদন্তিদের স্মরণে নিয়মিত টুর্নামেন্ট, স্মারক আয়োজন কিংবা তাঁদের জীবন ও কীর্তি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ, ইতিহাসকে স্মরণ করেই ভবিষ্যতের পথচলা আরও সমৃদ্ধ হয়। নরসিংদীর ফুটবলের এই গর্বিত সন্তানের অবদান যত বেশি নতুন প্রজন্ম জানবে, ততই সমৃদ্ধ হবে জেলার ক্রীড়া ঐতিহ্য।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর